kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাবে পণ্য বৈচিত্র্যায়ণ

এম সায়েম টিপু   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাবে পণ্য বৈচিত্র্যায়ণ

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ চীনের বাজারে বাংলাদেশ ৯৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুুক্ত সুবিধা পায়। কিন্তু পণ্য বহুমুখীকরণ ও প্রতিয়োগিতা সক্ষমতার অভাবে রপ্তানি বাণিজ্যের এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এই সুবিধা কাজে লাগাতে হলে চীনের বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। দেশে উৎপাদিত পণ্য চীনে পাঠানোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন খাতে চীনের আঞ্চলিক কেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

কভিড-১৯-পরবর্তী ২০২১ সালে চীন বাংলাদেশকে ৯৭ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়। এর আগে ছিল ৬১ শতাংশ। গত ৬ আগস্ট চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের সময় আরো ১ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আল মামুন মৃধা জানান, বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আরো কিছু পণ্য শুল্কমুক্ত সবিধা দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া রপ্তানি বৈষম্য কমাতে নতুন করে কিছু পণ্যের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক মাছ, সবজি, ফল, চামড়াজাত পণ্য, লাইভস্টক ফিসারিজ, কুটির শিল্প, মধু, পাট এবং পাটজাত ও তথ্য-প্রযুক্তি পণ্য।

বিসিসিআই জানায়, চীন বিশ্ববাজার থেকে বছরে ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার পণ্য আমদানি করে। বাংলাদেশ যদি এর ১ শতাংশ রপ্তানি করতে পারে তাহলে এই আয় দাঁড়াবে দুই হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

চীনে সর্বোচ্চ রপ্তানি হয়েছিল ৯৫ কোটি ডলার। এটা ২০২১ অর্থবছরে নেমে আসে ৬৮ কোটি ডলারে। এই আয় চীনের মোট আমদানির ০.০৪ শতাংশ মাত্র।

জানতে চাইলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্ট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, শুধু শুল্কমুক্ত সুবিধায় বাংলদেশের চীনের বাজারে প্রবেশ যথেষ্ট নয়। এ জন্য চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে। পোশাকের বাইরে পণ্য বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে।

 

আবদুর রাজ্জাক বলেন, দেশটির সঙ্গে পিটিএ, এফটিএ চুক্তির জন্য বিটুবি বা জিটুজি আলোচনা হতে পারে। এর বিকল্প হতে পারে আরসিইপি। এটা হলে দেশের রপ্তানি আয় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশটিতে প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজার ৩৩০ বিলিয়ন ডলারের। আর চীন আমদানি করে ১০ বিলিয়ন ডলারের। পোশাক আমদানি কম করে বলে অভ্যন্তরীণ বাজারও বেশ প্রতিযোগিতামূলক। এ ছাড়া চীন বিশ্বে বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। ২০২১ সালে ১৪০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এটা বিশ্ববাজারের ৩০ শতাংশ।

উৎপাদন খাতে বাংলাদেশ চীনের আঞ্চলিক হাব হতে পারে উল্লেখ করে আবদুর রাজ্জাক বলেন, এ জন্য চীনের বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে বাংলাদেশকে। এই মুহূর্তে দেশটি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সরবরাহ লাইন বহুমুখী করতে চায়। অন্যদিকে সস্তা মজুরির কারণে চীনের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে কানাডা, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেতে পারে চীন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ছোট ছোট কিছু পণ্য গেলেও বেশির ভাগ রপ্তানি পোশাক খাতের ওপর নির্ভর। অন্যদিকে চীন বিশ্বের প্রধান রপ্তানিকারক দেশ। তাই রপ্তানি বাড়াতে পোশাকের বাইরে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, প্লাস্টিক, চামড়াজাত পণ্যে জোর দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান আহসান এইচ খান বলেন, পণ্য বৈচিত্র্য নিয়ে বাংলাদেশ কাজ করছে। এ ছাড়া দেশটিতে যাতায়াত ও ভিসা জটিলতা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে চীনে রপ্তানি করা হয়েছে ৬৮ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য। একই সময় চীন থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য।



সাতদিনের সেরা