kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

১৩৯ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছে গ্রাহক

পেমেন্ট গেটওয়ের অর্থ ফেরতে এগিয়ে ফস্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পেমেন্ট গেটওয়ের অর্থ ফেরতে এগিয়ে ফস্টার

পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা ই-কমার্স গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ফস্টার করপোরেশন লিমিটেড। এসব লেনদেনের বিপরীতে ১৩৯ কোটি টাকার বেশি ফেরত দিয়েছে ফস্টার পেমেন্ট। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের মাধ্যমে কিউকমের গ্রাহকরা এই টাকা ফেরত পেয়েছেন।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম টাকা নিয়ে পণ্য দেয়নি, টাকাও ফেরত দেয়নি, এমন ১৭ হাজার ৭৮৯টি লেনদেনের বিপরীতে ১৭ হাজার ১৭৫টি লেনদেনের ১৩৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে শীর্ষ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরতে অগ্রগতি নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আলেশা মার্ট ৩৯ কেটি ১৮ লাখ টাকা এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা দালাল প্লাস ফেরত দিয়েছে ১২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশে পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফস্টার পেমেন্ট সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে ও সর্বোচ্চ কমপ্লায়েন্স বজায় রেখে গ্রাহকের টাকা নিয়মমাফিক সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এযাবৎকালে সবচেয়ে বেশি গ্রাহকের টাকা একমাত্র ফস্টার পেমেন্টের কাছেই সংরক্ষিত আছে বলে জানা গেছে।

ফস্টার করপোরেশন ধারাবাহিকভাবে অর্থ রিফান্ড করছে বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. আল বেরুনী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনামতো আমরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিচ্ছি। যে প্ল্যাটফরমে গ্রাহকরা টাকা দিয়েছিলেন সেই প্ল্যাটফরমেই টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ডেবিট কার্ড, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) যারা যে মাধ্যমে ট্রানজেকশন করেছিলেন তাদের সেখানেই অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। যারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা দিয়েছিল তাদের নিজ নিজ ওয়ালেট নম্বরে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছি। যারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠিয়েছিল তাদের তালিকা আমরা ব্যাংককে দিচ্ছি, ব্যাংক তা রিফান্ড করে দিচ্ছে। গ্রাহকদের এমএফএস ওয়ালেট নম্বরগুলো আমরা সংশ্লিষ্ট এমএফএস অপারেটরের কাছে থেকে সংগ্রহ করার পর টাকা ফেরত হচ্ছে। ’

তিনি বলেন, ‘কিউকমের ৩৯৪ কোটি টাকা কিউকমে আটকে যায়, যা ফস্টার পেমেন্টের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সঠিকভাবে সংরক্ষিত আছে। কিউকমের কাছ থেকে রিফান্ড লিস্ট পাওয়া সাপেক্ষে সঠিক উপায় অর্থ ফেরত দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমরা কিউকম থেকে ১৪৫ কোটি টাকার ফেরত দেওয়ার মতো লেনদেনের তালিকা পেয়েছি। এর মধ্যে আমরা প্রায় ১৪০ কোটি পরিশোধ করেছি। বাকি পাঁচ কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন। ’

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কিউকমের গ্রাহক মোহাম্মদ নুরুল আবছার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি গত বছরের ২৪ জুনে কিউকমে একটি ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল কেনার অর্ডার দিয়ে এখনো তা পাইনি। তবে আমাকে চলতি বছরের ১৯ জুলাই তিন লাখ ১৪ হাজার ৮৩২ টাকা ফেরত দিয়েছে ফস্টার করপোরেশন। ’

তিনি আরো বলেন, ইভ্যালিতে আটকে আছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক; কিন্তু এখনো কোনো আশ্বাস পাচ্ছি না। এগুলো জানি না কবে পাব, তবে ইভ্যালির সিইও রাসেল ভাই জামিনে মুক্তি পেলে ইভ্যালির টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল) মো. সাঈদ আলী টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক যাতে তাদের টাকা ফেরত পান সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। আমরা কিউকমে আটকে থাকা ২০ জন গ্রাহকের টাকা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছিলাম গত ২৪ জানুয়ারি। বাকি টাকা ফেরত দেওয়া প্রক্রিয়াধীন আছে। ধাপে ধাপে অন্য গ্রাহকদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। ’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গত বছর ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ফস্টার পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে সংরক্ষিত  থাকা কিউকমের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাওনাদার গ্রাহকের তালিকা পাঠায় প্রতিষ্ঠান দুটি।



সাতদিনের সেরা