kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

বিশ্বমন্দায়ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বমন্দায়ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক

বৈশ্বিক অর্থনীতির বিদ্যমান মন্দার মধ্যেও ধারাবাহিক সম্ভাবনা দেখাচ্ছে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এর ফলে মন্দার মৌসুমেও গত জুলাই মাসে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬.৬১ শতাংশ। আর মোট রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ।

গতকাল মঙ্গলবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাস জুলাইতে বাংলাদেশ ৩৯৮ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। ২০২১ সালের জুলাই মাসে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪৭ কোটি ডলার। এ ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.৭২ শতাংশ।

আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে জুলাইয়ের রপ্তানি। গত জুলাইয়ে সরকারের পক্ষ থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৯২ কোটি ডলার। সেই হিসেবে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ছয় কোটি ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। তবে জুনের তুলনায় জুলাইতে রপ্তানি প্রায় ১০০ কোটি ডলার কমে গেছে। গত জুনে বাংলাদেশ ৪৯১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল। জুলাইতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯৮ কোটি ডলারে।

ইপিবির রপ্তানি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই মাসে নিট ও ওভেন মিলিয়ে ৩৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬.৬১ শতাংশ বেশি।

গত বছরের জুলাই মাসে ২৮৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। তবে সদ্যোবিদায়ি ২০২১-২২ অর্থবছরে পোশাক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় সাড়ে ৩৫ শতাংশ।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলেও তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সমিতি বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ব মন্দার মধ্যে জুলাই মাসে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক। ক্রেতাদের বিক্রি কম হওয়ায় আগস্ট থেকে অক্টোবর স্বাভাবিকভাবেই মন্দা মৌসুম (লিন পিরিয়ড) থাকে। কার্যাদেশ কম হয়। এর পরও আশা বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক খাতে সম্ভাবনা এখনো প্রচুর।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির বড় গন্তব্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড উচ্চতায় উঠে যাচ্ছে। এতে সেসব দেশের মানুষের জীবনযাত্রার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বাড়তি খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। এর পরও প্রায় ১৭ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক।

বিকেএমইএ প্রথম সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বছরে প্রথম মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে প্রকৃত রপ্তানি আয় কমছে। সদ্যোবিদায়ি অর্থবছরে পোশাক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৫ শতাংশ, তা নেমে ১৬.৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া গত জুনে ৪৯১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল। জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯৮ কোটি ডলারে। তিনি বলেন, রপ্তানি কার্যাদেশও গত দুই মাস ধরে কমছে। গ্যাসসংকটের কারণে উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তৈরি পোশাক ছাড়াও অন্য বেশ কিছু পণ্যেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশের রপ্তানি আয়ের মধ্যে প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে এক কোটি ৪৬ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৪ শতাংশের বেশি।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ছয় কোটি ১৩ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ শতাংশের বেশি। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ছয় কোটি ৩৯ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে  ৫.১৭ শতাংশ।   প্রকৌশল পণ্যে আয় হয়েছে চার কোটি ৪৫ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে  প্রায় ৩২ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা