kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

৪৮ ঘণ্টায় বন্দর ছাড়বে জাহাজ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৪৮ ঘণ্টায় বন্দর ছাড়বে জাহাজ

চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) একসঙ্গে ১৪টি ‘কি গ্যান্ট্রি ক্রেন’ দিয়ে পণ্য ওঠানো-নামানো হবে। এই যন্ত্র বিশ্বের সব শীর্ষ সমুদ্রবন্দরেই দ্রুত পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এত দিন ১০টি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে পণ্য ওঠানো-নামানো হচ্ছিল বন্দরের এনসিটিতে; গত মে মাসে দুটি গ্যান্ট্রি ক্রেন এরই মধ্যে পণ্য ওঠানো-নামানোয় যুক্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার পৌঁছানো আরো দুটি গ্যান্ট্রি ক্রেন বন্দরের বহরে যুক্ত হবে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে।

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ জুলাই থেকেই ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে এনসিটির পাঁচটি জেটিতে পণ্য ওঠানো-নামানো হবে, যা রেকর্ড।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, এনসিটির পাঁচটি জেটিতে ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হলে বাড়তি ২০ শতাংশ পণ্য ওঠানো-নামানো সম্ভব। একই সঙ্গে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ দ্রুত হওয়ায় এই টার্মিনালে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি কনটেইনার জাহাজ আমদানি পণ্য নামিয়ে আবার রপ্তানি পণ্য জাহাজে তুলে ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

জেটির পাশে পানির গভীরতা বেশি থাকা এবং কি গ্যান্ট্রি ক্রেন সুবিধার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালেই (এনসিটি) বড় আকারের কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো হয়। যেসব কনটেইনার জাহাজের নিজস্ব ক্রেন নেই সেই জাহাজগুলোই শুধু এই কি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে পণ্য ওঠানো-নামানো হয়। এনসিটি টার্মিনালে মোট পাঁচটি জেটি রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য সাড়ে ৮০০ মিটার। এর মধ্যে একটি জেটি ঢাকার পানগাঁও ইনল্যান্ড টার্মিনালের পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য বরাদ্দ আছে; যেখানে শুধু চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটের ছোট জাহাজ ভিড়ে। বাকি চারটি জেটিতে এত দিন ১০টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে পণ্য ওঠানো-নামানো চলছিল। জুলাই থেকে মোট ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে চলবে এনসিটি টার্মিনাল। চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটি অর্থাৎ এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবির কনটেইনার ওঠানো-নামানোর ৪০ শতাংশই হয় এনসিটি টার্মিনালে। টার্মিনালটির অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, এনসিটি জেটিতে প্রতিটি কনটেইনার জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ শেষ করতে গড়ে ৫৯ ঘণ্টা সময় লাগে। এর মধ্যে আমদানিতে সময় লাগে খুব কম, রপ্তানি পণ্য ডিপো থেকে এসে জাহাজে তুলতেই বেশি সময় লাগে। তখন এক জেটিতে তিনটি গ্যান্ট্রি ক্রেন লাগলে সময় কমে ৪৮ ঘণ্টায় নামবে। বিপুল কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হলে জেটিতে বেশি জাহাজ ভিড়ানো যাবে। কম সময়ে বেশি জাহাজ ভিড়িয়ে বেশি পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ করা যাবে। এতে বন্দরের গতিশীলতা বাড়াবে, পণ্য রপ্তানিতে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেবে।

বন্দর বলছে, এনসিটির ২, ৩, ৪, ৫ নম্বর জেটিতে তিনটি করে কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হবে জুলাই মাসে। আর এনসিটি-১ জেটিতে দুটি ক্রেন যোগ হবে। এক হাজার ৯০০ একক কনটেইনারবাহী একটি জাহাজ থেকে আমদানি পণ্য নামাতে এনসিটির জেটিতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ১২-১৩ ঘণ্টা। গার্মেন্ট মালিকদের এত ছাড় দেওয়ার পরও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণেই বেশি সময় লাগে।

এশিয়ান গ্রুপের কর্ণধার ও বিজিএমইএ নেতা এম এ সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা অবশ্যই খুশির খবর, বন্দরে এনসিটিতেই ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে পণ্য ওঠানো-নামানো হবে। দ্রুত পণ্য ওঠানো-নামানো মানেই আমরা বিশ্বের অন্য প্রতিযোগীর চেয়ে এগিয়ে থাকা। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি পণ্য দ্রুত জাহাজীকরণে বন্দর কর্তৃপক্ষ সংরক্ষিত এলাকার ভেতর যদি একটি ডেডিকেটেড শেড রাখে তাহলে আরো দ্রুত পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব। ’

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত ২০০৭ সালে বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল সর্বাধুনিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। ১০টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করে ক্রেনবিহীন জাহাজ ভিড়িয়ে দ্রুত পণ্য ওঠানো-নামানোই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করতে না পারায় তত দিন ক্রেনযুক্ত জাহাজ দিয়েই এনসিটিতে পণ্য ওঠানো-নামানো হতো। নানা উদ্যোগ নিয়ে জটিলতা কাটিয়ে ১১ বছর পর বিগত ২০১৮ সালে ১০টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন বন্দরের বহরে যুক্ত হয়।



সাতদিনের সেরা