kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

সম্মেলনে বক্তারা

অর্থায়ন নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ বদ্বীপ পরিকল্পনার

♦ বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে ৩৭ বিলিয়ন ডলার
♦ এখন পর্যন্ত অর্থায়ন করেছে নেদারল্যান্ডস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শতবর্ষী পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই মহাপরিকল্পনায় এখন পর্যন্ত অর্থায়ন করেছে নেদারল্যান্ডস। তবে এই শতবর্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন লাখ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই বিশাল অর্থায়ন খুঁজে পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স : ইস্যুজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব ইমপ্লিমেন্টেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উন্নয়ন সহযোগীরা এ মন্তব্য করেন। এর আগে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত দুই দিনের সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় দেশজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা সাজানো সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় চিন্তা করেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু করার। সেই হিসেবে এটা একটা ভালো প্রকল্প। ’

তিনি আরো বলেন, “ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতি কিংবা ‘ব্লু ইকোনমি’ ঘরে তুলতে পারব। সুনীল অর্থনীতি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। তবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন নিশ্চিত করা। নেদারল্যান্ডস যেভাবে এগিয়ে এসেছে ঠিক সেভাবে অন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোও এগিয়ে আসবে। আমাদের পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট, কিন্তু অর্থায়ন হলেই আমরা কাজ এগিয়ে নিতে পারব। ”

এ সময় অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘জলবায়ু ক্ষতি না করে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এমন কিছু করতে চাই। আর এটাই হলো ডেল্টা প্ল্যান। আমাদের মাটি, পানি ও বায়ুর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে। আমাদের সরকারের অন্যতম লক্ষ্য কেউ দরিদ্র থাকবে না, কেউ ভূমিহীন থাকবে না। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে সরকারের সব উদ্দেশ্য সফল হবে। এর মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন ও জলবায়ু ইস্যু যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে পারব। ’

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যান আমাদের স্বপ্ন। এটা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই ডেল্টা প্ল্যানের বিষয়ে দেশবাসীকে আরো সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে। ডেল্টা প্ল্যানের স্বপ্নের বীজ তাদের হৃদয়ে বপন করতে হবে। ’

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ ও ভুটান) মার্সি টেম্বন বলেন, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বিশাল অর্থায়ন প্রয়োজন। এই অর্থ জোগান দেওয়া ডেল্টা প্ল্যানের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এটা বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিরাট মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই শতবর্ষী পরিকল্পনা একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাস্তবায়ন করবে। তবে এ জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় খুবই জরুরি এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাইকার বাংলাদেশ প্রধান প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. কাওসার আহমেদ প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা