kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

বিদেশি ফলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

♦ ১২ হাজার কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব
♦ ২০% শুল্ক আরোপে আমদানি কমবে
♦ দাম পাবেন দেশের কৃষক

আসিফ সিদ্দিকী ও সজীব আহমেদ   

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশি ফলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

মৌসুম শুরু হওয়ায় দেশি ফলের সমাহারে জমে উঠেছে রাজধানীর দোকানগুলো। ছবি : শেখ হাসান

ফিল আমদানির মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা বিদেশে পাঠানো ঠেকাতে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। গত ২৩ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। নতুন এই শুল্ক এমন সময়ে আরোপ করা হলো, যখন দেশি ফলের জমজমাট মৌসুম চলছে। দেশি মৌসুমি এসব ফলের দাপটে এই সময়ে এমনিতেই বিদেশি ফলের কদর কমে যায়।

বিজ্ঞাপন

সেই দাপট অটুট থাকে আগস্ট মাস পর্যন্ত। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি ফল আমদানিকারকরা বিপাকে পড়লেও দেশি ফলের এবার ভালো দাম মিলবে। আর এতে আগামী বছর ফল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি আরো বেশি হবে। চাঙ্গা হবে কৃষি অর্থনীতি, সাশ্রয় হবে ফল আমদানি বাবদ ১২ হাজার কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রার। আর এই সিদ্ধান্ত বছরব্যাপী বহাল থাকলে স্বাবলম্বী হওয়ার দিকেই ঝোঁক বাড়বে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের তিন টহরি অ্যাগ্রোর কর্ণধার আফরিন নেওয়াজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদেশি অনেক ফল, যেমন—স্ট্রবেরি, ড্রাগন, কমলা, মাল্টা আমরা বেশ কয়েক বছর ধরেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছি। স্বাদে-মানে আমদানি ফলের চেয়ে কোনো দিক থেকেই কম নয়। অনেক ক্ষেত্রে আরো ভালো, আবার দামও অনেক কম। কিন্তু বিদেশি ফলের সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে আমরা আর্থিক ক্ষতিতে পড়ি। এখন সেই সুযোগ এসেছে। মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। অন্তত এক বছর এই সুযোগ দেশের তরুণ কৃষকদের দেওয়া উচিত। ’

রাজধানীর বাদামতলীর পাইকারি ফল ব্যবসায়ী ও ফল আমদানিকারক মো. আল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন করে সরকার যে পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছে, তাতে প্রত্যেকটি আমদানি করা ফলে কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ায় বিদেশি ফলের খরচও বাড়বে। ডলারের দাম বাড়ায় ও এই শুল্ক আরোপে দেশের বাজারে আমদানীকৃত ফলের দামে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে। কারণ দেশের বাজারে ফলের চাহিদার ৬৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ’

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার ফলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে ধরে আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়েছে, যা একেবারেই উচিত হয়নি। কারণ ফল তো বিলাসী পণ্য নয়। মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে এবং স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মানুষে ফল খেয়ে থাকে। ’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশি ফলের ভরা মৌসুম চলায় এই শুল্ক আরোপের প্রভাব বাজারে এখনই পড়বে না। এই প্রভাব পড়বে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে। আপেল, মাল্টা আমদানি খরচ কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বাড়বে, আঙুর কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বাড়বে, কমলা, নাশপাতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়বে, আনার ২০ থেকে ২৫ টাকা আমদানি খরচ বাড়বে; যার ফলে দেশের বাজারেও আমদানীকৃত ফলের দাম বাড়বে। ’

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ফলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানীকৃত ফলের চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও ফল ব্যবসায়ীরা কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ফল বিক্রি করছেন। আপেল প্রতি কেজি ২০০ টাকা, মাল্টা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, আনার ছোট সাইজের ৩৫০ টাকা, নাশপাতি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা এবং আরবান ফ্রেশ অ্যাগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদ আহমেদ চৌধুরী রাব্বি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, সরকারের যুগান্তকারী এই সিদ্ধান্তের ফলে করোনা মহামারি-পরবর্তী যেসব শিক্ষিত তরুণ কৃষি খাতে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কৃষিতে তাঁদের পারফরম্যান্স দেখানোর সুযোগ তৈরি হবে। গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি নতুন করে চাঙ্গা হবে। ’

কাস্টমস বলছে, বর্তমানে ফল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি (সিডি) ২৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ এবং অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট ৪ শতাংশ ধার্য রয়েছে। ফল আমদানিতে এত দিন নিয়ন্ত্রণমূলক বা রেগুলেটরি ডিউটি ছিল ৩ শতাংশ; এখন সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ। এর ফলে ফল আমদানিতে খরচ বাড়বে। আর খরচ বাড়লে আমদানীকৃত ফলের দামও বাড়বে নিশ্চিতভাবে।

জানতে চাইলে ফল আমদানিকারক চট্টগ্রামের সিহা ফ্রুটস এজেন্সির মালিক হাজি মোহাম্মদ আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক কার্টন (১৮ কেজি) আপেল আমদানিতে আগে খরচ পড়ত তিন হাজার টাকা, এখন সেটি বেড়ে তিন হাজার ৩০০ টাকা হয়েছে। ২৩ মে থেকেই শুল্ক আরোপ করায় বাড়তি দামে এসব ফল আমদানি করতে হচ্ছে। ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জাহাজজট, ডলারসংকটের কারণে আমরা এমনিতেই চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। নতুন শুল্ক আরোপের কারণে ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ী আমদানি বন্ধ করে দেবেন। ’



সাতদিনের সেরা