kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

তিন লাখ টনের বেশি গম নামছে জাহাজ থেকে

ভারতের পাশাপাশি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে এসব গম

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন লাখ টনের বেশি গম নামছে জাহাজ থেকে

চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে সাগরে এখন তিন লাখ ১৮ হাজার টন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের গমবাহী ছয়টি জাহাজ আছে। এসব জাহাজের মধ্যে সরকারি গম আছে এক লাখ পাঁচ হাজার টন; আর বেসরকারি উদ্যোগের গম আছে দুই লাখ ১৩ হাজার টন। সাগরে এসব জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে গম স্থানান্তর করে নদীপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে। আবার সড়কপথে সরকারি-বেসরকারি গুদামে নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আমদানীকৃত গমের মধ্যে ভারত থেকে যেমন এসেছে; তেমনি এসেছে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। ভারত থেকে আসা গমগুলো দেশের জলসীমায় পৌঁছেছে ভারতের দেওয়া ১৩ মে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার আগেই। নিষেধাজ্ঞার পর অবশ্য ভারত থেকে গমবাহী কোনো জাহাজ এখনো আসেনি।

ভারত থেকে আসা সরকারি গমবাহী দুটি জাহাজ থেকে এখন গম নামানো হচ্ছে। জানতে চাইলে খাদ্য বিভাগের চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আবদুল কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইমানুয়েল সি’ জাহাজ থেকে ৫২ হাজার ৫০০ টন গম জাহাজ থেকে নামানো হচ্ছে; যেটি এসেছে ১৬ মে। আর ২১মে এসেছে ৫২ হাজার ৫০০ টন নিয়ে ‘ভি স্টার’ জাহাজ। সেই জাহাজ থেকে গতকাল গম নামানো শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি জেনেছি মে মাস নাগাদ আরো একটি গমের চালান জাহাজে করে দেশে আসতে পারে। এর পরিমাণ অবশ্য জানতে পারিনি। তবে এটা ঠিক, যে দুটি গমবাহী জাহাজ এসেছে সেগুলো ১৩ মে নিষেধাজ্ঞার আগে। এরপর নতুন করে কোনো জাহাজ সরকারিভাবে আসেনি। ’

খাদ্য বিভাগের হিসাবে, সরকারিভাবে ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে গতকাল ২৩ মে পর্যন্ত প্রায় ১১ মাসে চার লাখ ৪৭ হাজার টন গম সরকারিভাবে এসেছে। এই দুটি জাহাজের গম যুক্ত হলে সরকারিভাবে গম আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে চার লাখ ২৩ হাজার টন। সরকারিভাবে চলতি অর্থবছরে সাড়ে ছয় লাখ টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত আছে। সে হিসেবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকারের হাতে সময় আছে মাত্র এক মাসের কিছু বেশি। তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, যেই দরপত্র ডাকা হয়েছে সেগুলো আসলে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।  

উল্লেখ্য, ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারিভাবে গম আমদানি হয়েছে চার লাখ ৭৮ হাজার টন। সে হিসাবে গতবারের তুলনায় এবার বেশি গম আমদানি এরই মধ্যেই হয়ে গেছে।

খাদ্য বিভাগের হিসাবে বেসরকারি উদ্যোগে ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে গতকাল ২৩ মে পর্যন্ত প্রায় ১১ মাসে ৩০ লাখ ১৩ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের বহির্নোঙরে এখন যে গমবাহী জাহাজ আছে সেগুলো যোগ হলে বেসরকারি খাতে গম আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩২ লাখ ২৬ হাজার টন।

বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে বেসরকারি উদ্যোগে গম আমদানি হয়েছিল ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার টন। চলতি অর্থবছরে হাতে আছে মাত্র এক মাসের বেশি। এর মধ্যে গতবারের সমপরিমাণ গম আমদানির সম্ভাবনা নেই। মূলত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্বে গমের বড় সরবরাহকারী ওই দুটি দেশ থেকে গম আমদানি চরমভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়। রাশিয়া থেকে গম আনতে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেন যুদ্ধবিধ্বস্ত হওয়ায় সেখান থেকে গম আনার সুযোগ নেই। এই অবস্থায় বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশও গম আমদানির জন্য ভারতের দিকে আরো বেশি ঝোঁকে।

বাংলাদেশ আগে ৫৫ শতাংশ গম ভারত থেকে আনলেও যুদ্ধের কারণে ৬৩ শতাংশ গম আমদানি হয় ভারত থেকে। এই অবস্থায় ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিলে বিপাকে পড়ে গম আমদানি। এই সুযোগে অস্থিরতা শুরু হয় দেশের বাজারে। যদিও ভারত সরকার, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন বারবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আশ্বস্ত করেছে ভারত থেকে বাংলাদেশে গম আমদানিতে কোনো বাধা নেই।



সাতদিনের সেরা