kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

পুঁজিবাজারে ফের বড় দরপতন

♦ দর হারাল ৯০ শতাংশ কম্পানি
♦ দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর আশা বিশ্লেষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুঁজিবাজারে ফের বড় দরপতন

আবারও বড় দরপতনের সাক্ষী হলো দেশের পুঁজিবাজার। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পতনে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন উভয় পুঁজিবাজার সকাল থেকে সূচকের পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন চলে। আর দিনশেষে সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৯১ শতাংশ ও সিএসইতে ৮৬ শতাংশ কম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১৫.৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৪২.৬৮ পয়েন্টে। ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২১.৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬১.৭৩ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯.৫১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৭৭.১৬ পয়েন্টে।

ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৭৯টি কম্পানির মধ্যে শেয়ারের দাম বেড়েছে ২১টির, কমেছে ৩৪৫টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১৩টির। এদিন ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৬৮২ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৪ কোটি টাকা কম।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। বিনিয়োগ ধরে রাখতে হবে। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা পুঁজি হারিয়ে অনেকেই দিশাহারা। প্রতিদিনই শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। পতনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে  থাকা কম্পানিগুলোও। লোকসান কমাতে দিশা খুঁজে পাচ্ছে না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। চলমান দরপতনের পেছনে যুক্তিসংগত কারণ নেই বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরাও। তাঁরা বলছেন, টানা দরপতনের কারণে ভালো মৌলভিত্তির অনেক কম্পানির শেয়ার দাম অবমূল্যায়িত হচ্ছে।   বিনিয়োগকারীদের এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিন্তিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। যাঁরা প্রতিদিন শেয়ারের দর বাড়াতে চান তাঁদের সমস্যা। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের প্রভাব, ডলারের দামসহ নানা সমস্যা আমরা দেখছি। এর কারণে কিছুটা ভীতি কাজ করছে, আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে সৃষ্টি হওয়া আতঙ্কের কারণে শেয়ারবাজারে দরপতন হচ্ছে। বাজারে ভালো-মন্দ সব ধরনের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। অনেক ভালো ভালো কম্পানির শেয়ার যৌক্তিক মূল্যের নিচে নেমে গেছে। আমি মনে করি, বিনিয়োগকারীদের উচিত প্রতিষ্ঠান বাছাই করে শেয়ার কেনা। তাহলে ভালো লাভ পাওয়া যাবে। বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। ’

লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) প্রধান ১০টি কম্পানি হলো সাউথইস্ট ব্যাংক, আইপিডিসি, বেক্সিমকো লি., ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স, বিএসসি, জেএমআই হসপিটাল, স্যালভো কেমিক্যাল, জিএসপি ফাইন্যান্স, এসিআই ফর্মূলেশন ও শাইনপুকুর সিরামিক।   

দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কম্পানি হলো ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স, সাউথইস্ট ব্যাংক, নাহী অ্যালুমিনিয়াম, জিএসপি ফাইন্যান্স, এসইএমএল র‌্যাকচার ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ড, কাট্টালি টেক্সটাইল, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।     

সিএসইর প্রধান সূচক সিএসইএক্স ২২৯.২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮৩৫.৪০ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে সার্বিক সিএএসপিআই সূচক ৩৮২.২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৫৭.৫০ পয়েন্টে এবং সিএসআই সূচক ২৫.১৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৭.৭১ পয়েন্টে।

এদিন সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৭৬টি কম্পানির মধ্যে শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ২৩৮টির এবং অপরিবর্তিত আছে ২২টির। দিনশেষে সিএসইতে ১৭ কোটি তিন লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১০ কোটি টাকা কম।



সাতদিনের সেরা