kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

এ বছরের জন্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আজ

সাতক্ষীরার আমে রপ্তানি শুরু

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাতক্ষীরার আমে রপ্তানি শুরু

দেশে আমের মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও এখনো বাজারে পুরোদমে সব এলাকার আম আসা শুরু হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে ইউরোপে যাচ্ছে সাতক্ষীরার আম। আজ ১৯ মে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিদেশে আম রপ্তানি। ফলন কম হলেও বাজারদরে খুশি আম চাষিরা।

বিজ্ঞাপন

আমের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় রপ্তানি বাড়ছে প্রতিবছর।

আজ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার ৮ নম্বর কেরেলকাতা ইউনিয়নের আম চাষি ডবলু হোসেনের আমবাগান থেকে নিজ হাতে বিষমুক্ত সুস্বাদু হিমসাগর আম পেড়ে বায়ার কম্পানির মাধ্যমে ইউরোপে রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক কৃষিবিদ নূরুল ইসলামসহ আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত থাকবেন। হিমসাগার, গোবিন্দভোগসহ সাতক্ষীরার অন্যান্য জাতের আমও একই দিনে রপ্তানি শুরু হবে।

দেশের অন্য জেলার তুলনায় ১৫-২০ দিন আগে সাতক্ষীরার আম পরিপক্ব হয়। সে কারণে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জকে পেছনে ফেলে রপ্তানি বাজারে বেশি গুরুত্ব পায় এই এলাকার আম। প্রথমবারের মতো এ বছর সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ জাতের আম যাচ্ছে হংকংয়ের বাজারে। রপ্তানিকারকরা জানান, সাতক্ষীরার আমের বেশি খ্যাতি ইউরোপের বাজারে। গত বছর গাবিন্দভোগ আম রপ্তানি শুরু হয় জার্মানিতে।

সাতক্ষীরার নিরাপদ আমের বিশ্বস্ততা দেশ-বিদেশের সর্বত্র। বাগান থেকে কার্টন করা পর্যন্ত কোথাও কোনো অনিয়ম যাতে না হয় তার জন্য কৃষি বিভাগ, জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কড়া নজরদারি থাকে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মাটি ও আবহাওয়াজনিত কারণে সাতক্ষীরার আম আগে পাকে। স্বাদে, গুণে অনন্য হওয়ায় কয়েক বছর ধরেই সাতক্ষীরার আম রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে।

জেলায় হিমসাগর এক হাজার ৫৫০ হেক্টর, ল্যাংড়া ৫৬৪ হেক্টর, আম্রপালি ৮৯৯ হেক্টর, গোপালভোগ ২১৯ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৩৫২ হেক্টর, বোম্বাই ৫০ হেক্টর, লতা ১৫৩ হেক্টর, মল্লিকা ৮০ হেক্টর এবং ২৩১ হেক্টর জমিতে অন্যান্য আমের চাষ হয়েছে। আমের বাগান রয়েছে পাঁচ হাজার ২৯৯টি। চাষির সংখ্যা ১৩ হাজার ১০০ জন। প্রতি হেক্টর জমিতে এ বছর আমের উৎপাদন হয়েছে ১০-১১ মেট্রিক টন। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। জার্মানি, ইতালি, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সে সর্বমোট রপ্তানি হচ্ছে ৫০০ মেট্রিক টন আম। ২০১৬ সাল থেকে সাতক্ষীরার আম প্রথম ইতালিতে রপ্তানি শুরু হয়।

বিদেশে আম রপ্তানির জন্য কাজ করছে দাতা সংস্থা সলিডারিডাডের অর্থায়নে বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান উত্তরণ। সফল প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশে আম রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। দাতা সংস্থা সলিডারিডাডের ‘সফল’ প্রকল্পের কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, বিদেশে আম রপ্তানির জন্য সাতক্ষীরা জেলার ৩৫০ আম চাষিকে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আম প্রস্তুত ও রপ্তানি করা হয়। এ ছাড়া যশোরের শার্শা উপজেলার ১৫০ জন চাষি রয়েছেন আমাদের প্রকল্পে।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশে রপ্তানি হওয়া আমবাগানগুলোতে আগে থেকে তত্ত্বাবধান শুরু করে কৃষি বিভাগ। যেন কোনো চাষি ওই বাগানগুলোতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে না পারেন। সম্পূর্ণরূপে বিষমুক্ত আম রপ্তানি হয় বিদেশে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতি মণ তিন হাজার ২০০ টাকা দরে হিমসাগর আম রপ্তানি করা হবে। ’

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, রপ্তানির লক্ষ্যে জেলার কলারোয়া, সাতক্ষীরা সদর, তালা, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার ৩৫০ জন চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ বছর বাশার অ্যাগ্রো, ইসলাম গ্রুপ, গ্লোব ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, আর আর এন্টারপ্রাইজসহ ১৪টি কম্পানির মাধ্যমে সাতক্ষীরার আম বিদেশে রপ্তানি হবে।

 



সাতদিনের সেরা