kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

ইউরোপ-আমেরিকায় মন্দার আভাসে শঙ্কায় পোশাকশিল্প

রপ্তানি

এম সায়েম টিপু   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউরোপ-আমেরিকায় মন্দার আভাসে শঙ্কায় পোশাকশিল্প

পোশাক রপ্তানিতে মার্কিন বাজার মাত করেছে বাংলাদেশ। ফলে চলতি অর্থবছরে এই বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬২.২৩ শতাংশ। সাফল্য এসেছে ইউরোপের বাজারেও। কিন্তু এর পরও শঙ্কা ছাড়ছে না দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের।

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্বে সামনের দিকে একটা মন্দাভাব আসতে পারে। এ ছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে ইউরোপের বাজারে রপ্তানিতে প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্বের মূল্যস্ফীতির ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানো শুরু করেছে। ফলে কেউ কেউ মনে করেন, কভিড-পরবর্তী অর্থনীতি সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের আগেই পশ্চিমা বিশ্বে একটা মন্দাভাব আসতে পারে; এটা হলে রপ্তানি আয়ে ভাটার টান পড়তে পারে। ’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-এপ্রিল) রপ্তানি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময় মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৪৭ কোটি ডলার। ২০২১ সালের এই আয় ছিল ১৫২ কোটি ডলার। সেই হিসাবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬২.২৩ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কভিড-পরবর্তী দেশের বাজারে চাঙ্গাভাব, চীন-যুক্তরাষ্ট্র ঠাণ্ডা লড়াই এবং মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি আয় বাড়লেও সামনে রপ্তানিতে ভাটা পড়ার আশঙ্কাও আছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। ’ এ ছাড়া জানুয়ারি-মার্চ পোশাক খাতের বড় মৌসুম। এ সময় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা ইতিবাচক থাকে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরো জানান, করোনা মহামারির মধ্যে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭১৪ কোটি ডলার। এর আগের বছর ২০২০ সালে রপ্তানি হয় ৫২২ কোটি ডলার। তাঁরা মনে করেন, রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে এক হাজার কোটি ডলারের রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে গড়ে দেশটিতে রপ্তানি হয় ৮২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

অটেক্সার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম মার্কিন বাজারে রপ্তানি করেছে ৪৪৫ কোটি ডলার, ভারত ১৪৯ কোটি ডলার এবং চীন রপ্তানি করেছে ৫৩২ কোটি ডলার। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানি করেছে তিন হাজার ৫৩৬ কোটি ডলারের। এ সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা