kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

লোকসানে প্রায় আট হাজার চাষি

চা-পাতার দাম নেমেছে অর্ধেকে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চা-পাতার দাম নেমেছে অর্ধেকে

এমন দরিদ্র চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশ-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে বাংলাদেশের চা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড়ের সম্ভাবনাময় সমতলের চা-শিল্পে আবারও সংকট দেখা দিয়েছে। কাঁচা চা-পাতার দাম কমেছে কেজিপ্রতি আট থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। চায়ের দামে ধস নামায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ক্ষুদ্র চা চাষিদের। কারখানা মালিকরা সিন্ডিকেট করে একযোগে কাঁচা চা-পাতার দাম কমিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ বাগান মালিকদের।

বিজ্ঞাপন

চলতি চা মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি চা-পাতা ২২ থেকে ২৩ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ১৩ থেকে ১৪ টাকায়। এর মধ্য থেকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ওজন থেকে বাদ দিয়ে বাকিটা হিসাব করে দাম দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতি কেজি চা বিক্রি করে চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা। চা চাষিদের দৈনিক লোকসান হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা। ভরা মৌসুমে চায়ের দামে ধসে দিশাহারা পঞ্চগড়ের প্রায় আট হাজার ক্ষুদ্র চা চাষি।

গত বছর এক কোটি ৪০ লাখ ৫৪ হাজার ১৩০ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে শুধু পঞ্চগড় জেলা থেকেই। চা-শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে জেলার লক্ষাধিক মানুষ। কয়েক বছর ধরে মে, জুন ও জুলাইয়ের মধ্যে কাঁচা পাতার দাম নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে। এবারও মে মাসের শুরু থেকেই হঠাৎ করে চা-পাতার দাম কমিয়ে দেন কারখানা মালিকরা। বর্তমানে চাষিরা কেজিপ্রতি পাচ্ছেন ১০ থেকে ১২ টাকা, যা থেকে উৎপাদন খরচই উঠছে না বলে দাবি তাঁদের। চাষিদের অভিযোগ, নিলাম বাজারে প্রতি কেজি চা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও দাম কমের অজুহাতে কাঁচা চা-পাতার দাম কমিয়ে দিয়েছেন কারখানা মালিকরা। চায়ের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে ক্ষুদ্র চা চাষিরা আন্দোলনে নেমেছেন। কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চা চাষিদের সংগঠনগুলো।

তেঁতুলিয়ার চা চাষি কবির হোসেন বলেন, ‘তেঁতুলিয়া উপজেলার বেশির ভাগ ক্ষুদ্র চা চাষি চা চাষের ওপর নির্ভরশীল। এই চায়ের আয় দিয়েই চলে আমাদের সংসার। কিন্তু বর্তমানে আমরা চায়ের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না। কারখানা মালিকরা সিন্ডিকেট করে ঠিক চায়ের ভরা মৌসুমে দাম কমিয়ে দিয়েছেন। ’

গ্রিন কেয়ার অ্যাগ্রো লিমিটেড চা কারখানার ব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘কারখানা মালিকরা সিন্ডিকেট করেছেন কথাটি ঠিক নয়। নিলাম বাজারে আমরা ভালো দাম পেলে চাষিদের ভালো দাম দিয়ে থাকি। এখন আমরা কম দাম পাচ্ছি, তাই চাষিদেরও কম দাম দিতে হচ্ছে। এক কেজি তৈরি চা উৎপাদন করতে চার কেজি কাঁচা চা-পাতার প্রয়োজন হয়। আগে আমরা প্রতি কেজি তৈরি চা বিক্রি করতাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা দরে। ’

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘চা-পাতার দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের মাঝে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চাষিদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আগামী ১৮ মে সভায় আমরা চা-পাতার দাম নির্ধারণ করে দেব। ’

 



সাতদিনের সেরা