kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস

বৈদেশিক সহায়তায় রেকর্ড

তামজিদ হাসান তুরাগ   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৈদেশিক সহায়তায় রেকর্ড

করোনাকালে দ্বিতীয় অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বৈদেশিক ঋণ সহায়তার রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। চলতি (২০২১-২২) অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সহায়তার এই অর্থছাড় হয়েছে প্রায় ৪০২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ধরে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ছয় মাসে এত বেশি বিদেশি ঋণ সহায়তা কখনোই পায়নি বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। টাকার অঙ্কে তা ১৪ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থনীতি সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দেওয়া সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আপাতদৃষ্টিতে এই অর্থ দেশের জন্য সুফল বয়ে আনছে। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখছে। মুদ্রার প্রবাহ বাড়াচ্ছে। আর এতে স্বস্তিতে রয়েছে সরকার। মহামারিকালেও অর্থসংকটে পড়তে হয়নি। ব্যাংক থেকে খুব একটা ঋণ নিতে হচ্ছে না। তবে যদি এই ঋণের সঠিক ব্যবহার না হয়, তাহলে তা দেশের জন্য বোঝা হয়ে যাবে।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাংলাদেশকে ৪৩৯ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার (৪.৪০ বিলিয়ন) ডলার ছাড় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো। দিয়েছে ৪১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ছাড় করা সহায়তার মধ্যে ৪০২ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার ডলার (৩৪ হাজার ৬১৭ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা) পাওয়া গেছে প্রকল্পে ঋণ সহায়তা হিসেবে। ১৫ কোটি ছয় লাখ ৭০ হাজার ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার খাদ্য অনুদান এবং ১৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার প্রকল্প অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। এ ঋণ ও অনুদান গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯.১৪ শতাংশ বেশি।

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাকালে বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তা ও অনুদান বেড়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো বিষয়। কারণ এ সময় সরকারকে কোনো চাপের মুখে পড়তে হয়নি। সরকারের হাতে পর্যাপ্ত টাকা থাকায় অতিমারিকালে সব প্রকল্পের  অর্থায়ন করতে পেরেছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘তবে দেখতে হবে কোন শর্তে তারা এই ঋণ নিয়েছে এবং ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না। যদি এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না করা যায়, তাহলে আমাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। কারণ আজ হোক অথবা কাল, এই অর্থ কিন্তু আমাদেরই পরিশোধ করতে হবে। সুতরাং অর্থের বিনিয়োগ যাতে সঠিকভাবে হয়, কোনো অপচয় না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। ’

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৩০০ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার ছাড় করেছিল দাতারা। এ হিসাবেই এই ছয় মাসে বিদেশি ঋণ সহায়তা বেড়েছে ৩৯.১৪ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭১০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিদেশি ঋণ আসে বাংলাদেশে। ওই বছর ৭৩৮ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া গিয়েছিল।

বিনা প্রতিশ্রুতিতে ভারত ও রাশিয়ার অর্থছাড় : অতিমারির এই সময়ে ভারত ও রাশিয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না বাংলাদেশকে সহায়তা করার। তবে এই দুই দেশ বিনা প্রতিশ্রুতিতে দিয়েছে তিন হাজার ৬৩৪ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ভারত দিয়েছে ৪৭২ কোটি টাকা আর রাশিয়া দিয়েছে তিন হাজার ১৬২ কোটি টাকা।



সাতদিনের সেরা