kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

বিলাসী ১১০ গাড়ির নিলাম বিক্রির অনুমতি তিনটির

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিলাসী ১১০ গাড়ির নিলাম বিক্রির অনুমতি তিনটির

ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে আয়োজন করে নিলামে তোলা হয়েছিল ১১০টি বিলাবসহুল পুরনো গাড়ি; যেগুলো অন্তত ১২ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে পড়েছিল। সেই নিলামে দেশজুড়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়াও এসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনটি গাড়ি রাজস্ব বোর্ডের কাছ থেকে চূড়ান্তভাবে বিক্রির অনুমোদন মিলেছে। যদিও চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পাঁচটি গাড়ি বিক্রির জন্য সুপারিশ করেছিল।

অনুমোদন পাওয়া তিনটি গাড়ি হচ্ছে, ২৫০০ সিসির কালো রঙের জার্মানির তৈরি ছয় সিলিন্ডারের বিএমডাব্লিউ স্পোর্টস কার, যেটি ২০০৬ সালে তৈরি।

বিজ্ঞাপন

গাড়িটির সংরক্ষিত মূল্য ছিল এক কোটি ৩০ লাখ টাকা, কিন্তু নিলামে গাড়িটির দর উঠেছে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

আরেকটি গাড়ি হচ্ছে, জাপানের তৈরি প্রায় ৩০০০ সিসির টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার; ২০০৬ সালে চার সিলিন্ডারের তৈরি এই গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য ছিল এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে নিলামে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ৪১ লাখ টাকা।

তৃতীয় গাড়িটি হচ্ছে, ২০০৬ সালে জার্মানির তৈরি বিএমডাব্লিউ। গাড়িটি ছয় সিলিন্ডার এবং প্রায় ৩০০০ সিসির। সংরক্ষিত মূল্য ছিল দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকা। নিলামে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ৫৩ লাখ টাকা।

এক গাড়ি ব্যবসায়ী বলছেন, এই গাড়িগুলো ব্র্যান্ডেড হওয়ায় হাঁকডাকই বেশি ছিল, কিন্তু এখনকার অবস্থা অনেকটা কঙ্কালের মতো। এর পরও কয়েকজন কিনতে চাইছেন; কারণ ওই গাড়ি থেকে পার্টস নিয়ে নিজের গাড়িতে লাগাবেন। ফলে নিলামে বিক্রি যত দেরি হবে, ততই গাড়িগুলো স্ক্র্যাপ হওয়ার পথেই ঝুঁকবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তিনটি গাড়ি বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু শর্ত দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ক্লিয়ারেন্স পারমিট বা ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে গাড়িগুলো বিক্রি করা যাবে। এখন ১২ বছরের পুরনো সেই গাড়ি শেষ পর্যন্ত সিপি মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই অবস্থায় ১১০ গাড়িসহ মোট ১২৫টি বিলাসবহুল পুরনো গাড়ি নতুন করে নিলাম আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ নিয়ে পাঁচবার নিলামে উঠল পর্যটকদের কারনেট সুবিধায় আসা গাড়িগুলো, কিন্তু বিক্রি হয়নি কোনো গাড়ি।

নভেম্বর ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত কারনেট সুবিধার ১১০ গাড়ির নিলামে কিনতে ৫৫১টি রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। চট্টগ্রাম কাস্টমস উপকমিশনার (নিলাম) আলী রেজা হায়দার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা ঠিক এবার সর্বোচ্চ আবেদন জমা পড়েছিল, কিন্তু প্রত্যাশিত দাম আমরা পাইনি। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আমরা অনেক গাড়িই শেষ পর্যন্ত বিক্রির সুপারিশ করতে পারিনি। নিলাম কমিটি সব দিক বিবেচনায় পাঁচটি গাড়ি বিক্রির সুপারিশ পাঠাই রাজস্ব বোর্ডে, কিন্তু তিনটি গাড়ির অনুমোদন মিলেছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন নিলামে গাড়ির সিপি পেতে হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নতুন করে ইনভেন্ট্রি করতে হবে। এখন আমরা নতুনভাবে ইনভেন্ট্রি করেই আবার নিলাম আয়োজন করব। তখন আর কোনো জটিলতা থাকবে না। ’



সাতদিনের সেরা