kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

হোটেল-রেস্তোরাঁয় ক্রেতা কমছে

সজীব আহমেদ   

১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হোটেল-রেস্তোরাঁয় ক্রেতা কমছে

রাজধানীর রেস্টুরেন্টগুলোতে গত সপ্তাহের তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ ক্রেতা কমেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনার সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকায় সংকটে পড়ছে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা। এরই মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁয় ক্রেতা কমতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এখন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম মানুষ খাবার খেতে আসছে। এবার আগের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার পক্ষে নন তাঁরা, কারণ আগের ক্ষতিই এখনো কটিয়ে উঠতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

তাই করোনার সংক্রমণ আরো বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক অবস্থায় যেসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর সময়ে দম ফেলার ফুরসত থাকে না রেস্টুরেন্ট কর্মীদের, সেই তুলনায় ব্যস্ততা কিছু কম দেখা গেছে। কর্মীদের শতভাগ মাস্ক পরা, টেবিলে দূরত্ব রেখে ক্রেতা বসানোর নিয়ম মানছেন।

এদিকে করোনা মহামারির নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রনের বিস্তার রোধে ১১ দফা বিধি-নিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। ১১ দফার একটি হচ্ছে, আবাসিক হোটেলে থাকতে ও রেস্তোরাঁয় খেতে বা খাবার কিনতে হলে দেখাতে হবে করোনার টিকা সনদ (কার্ড)। করোনার টিকা সনদ দেখা হচ্ছে না হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে। তবে প্রতিটি হোটেল-রেস্তোঁরার প্রবেশপথে সতর্কবার্তা হিসেবে ‘টিকা কার্ড ছাড়া প্রবেশ নিষেধ’ লেখা দেখা গেছে।

রাজধানীর দক্ষিণ কুড়িল এলাকায় ‘ফুড টাইম রেস্টুরেন্ট’-এ দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, খাবার খেতে আসা মানুষের উপস্থিতি কম। জানতে চাইলে ম্যানেজার ইমরান হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলে খেতে আসা মানুষের সংখ্যাও কমছে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় হোটেলে খেতে আসা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় হোটেলে আড্ডা জমত, সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ উচ্চহারে করোনা বাড়তে থাকায় মানুষের ভেতর ভয় কাজ করছে। ’

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সুলতানস ডাইনের ম্যানেজার মোসাররাত হাসিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন করে আবার করোনা বাড়তে থাকায় মানুষের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। তাই গত সপ্তাহের তুলনায় এখন প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ খাবার খেতে কম আসছে। যদি এভাবে করোনা বাড়তে থাকে, তাহলে আবার এই ব্যবসা ঝুঁকিতে পড়বে। সামনে করোনা বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখতে চাই। কারণ আমরা আগের ক্ষতিই এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। আবার বন্ধ হয়ে গেলে আরো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। ’ স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি নিয়ে মোসাররাত হাসিন বলেন, ‘আমরা টিকা কার্ডের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করতে না পারলেও মাস্কের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করছি। আস্তে আস্তে হয়তো টিকা কার্ডের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে পারব। ’

‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁর ম্যানেজার মো. আলমাস হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে গত কয়েক দিন আগের তুলনায় খাবার খেতে আসা মানুষ ২৫-৩০ শতাংশ কমে গেছে। ’

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘এবার করোনার পরিস্থিতি বাড়লেও হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ করতে দেব না। কারণ এই খাতের ব্যবসায়ীরা এখনো ক্ষতির মধ্যে আছেন। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা চালু রাখা হবে। ’



সাতদিনের সেরা