kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অর্থবছরের প্রথম চার মাস

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি ও রপ্তানি দুই-ই বাড়ছে। তবে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বাড়ছে দ্রুত। ফলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাণিজ্য ঘাটতি ৯০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্য ঘাটতির সঙ্গে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবেও বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৪৭৭ কোটি ডলার। প্রবাসী আয়ের টানা পতন এবং রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হারে বৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাব এই ঘাটতির মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দুই হাজার ৩৯০ কোটি ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫১.৪২ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই চার মাসে এক হাজার ৫৭৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে এক হাজার ৪৮০ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২০.৪৫ শতাংশ বেশি। এ হিসাবে অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের প্রথম তিন মাস পর্যন্ত এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৬৭৩ কোটি ডলার।

পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পাশাপাশি সেবা খাতের ঘাটতিও বেড়েছে। সেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশকে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছে, সে তুলনায় পেয়েছে খুবই কম অর্থ। এ সময়ে সেবা বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে প্রথম চার মাসে এ খাতে ৭০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) চলতি হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ৪৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে চলতি হিসাবে উল্টো উদ্বৃত্ত ছিল ৩৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রবাসী আয়ের বড় পতন চলতি হিসাবে ঘাটতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবাস আয় কমেছে ১৯.৯৭ শতাংশ।

এ সময়ে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। অর্থবছরের চার মাসে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অথচ গত বছরের এই চার মাসে উদ্বৃত্ত ছিল ৪১৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের মতো। তবে আর্থিক হিসাবে এখনো উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। চার মাসে এই উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ হিসাবে ৩৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের মতো উদ্বৃত্ত ছিল। করোনার কারণে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অন্য দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণ সহায়তা পাওয়ায় আর্থিক হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।



সাতদিনের সেরা