kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রী বললেন

মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক রাখুন

গ্রিন অ্যাওয়ার্ড পেল দেশের ৩০ কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক রাখুন

গ্রিন অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত কারখানার প্রতিনিধিদের হাতে গতকাল এক অনুষ্ঠানে সনদ তুলে দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ছবি : পিআইডি

বর্তমান প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি রপ্তানির গতি বাড়াতে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘মালিক-শ্রমিকসহ সবাইকে আমি সব সময় একটা অনুরোধই করব, মালিক-শ্রমিকের একটা সুন্দর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে। ’

গতকাল বুধবার পরিবেশবান্ধব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাঝে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালিকদের সব সময় মনে রাখতে হবে, এই শ্রমিকরা শ্রম দিয়েই তাঁদের কারখানা চালু রাখেন এবং অর্থ উপার্জনের পথ করে দেন। সেই সঙ্গে শ্রমিকদের এই কথাটা মনে রাখতে হবে যে এই কারখানাগুলো আছে বলেই তাঁরা কাজ করে খেতে পারছেন, তাঁদের পরিবার প্রতিপালন বা নিজেরা আর্থিকভাবে উপার্জন করতে পারছেন। কাজেই কারখানা যদি না চলে, তাহলে নিজেদেরই ক্ষতি হবে। ’

তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘যে কারখানা আপনাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে, জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে, সেই কারখানার প্রতি আপনাদের যত্নবান হতে হবে। অনেক সময় আমরা দেখি, বাইরে থেকে কিছু শ্রমিক নেতা বা কোনো কোনো মহল উসকানি দেয় এবং একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, এখন বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক। এই প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে শিল্প-কলকারখানা, উৎপাদন ও রপ্তানি যদি সঠিকভাবে চলতে হয়, তাহলে কিন্তু কারখানাগুলো যথাযথভাবে যাতে চলে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি সেখানে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাহলে রপ্তানি যেমন বন্ধ হবে, সেখানে কর্মপরিস্থিতি থাকবে না এবং নিজেরাও কাজ হারাবেন। আর তখন বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরতে হবে। সে কথা মনে রেখে শ্রমিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘এখানে মালিক-শ্রমিকের সম্পর্কটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মালিকদের যেমন শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখতে হবে, শ্রমের ন্যায্য মূল্য এবং সঠিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি শ্রমিকদেরও দায়িত্ব থাকবে কারখানাটা সুন্দরভাবে যেন চলে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে দেশে এক লাখ ছয় হাজার ৭৭৭টি ছোট-বড় শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয়। এতে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছিল। সে সময় বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করে ৪২টি শিল্প খাতে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছি। ’

গ্রিন অ্যাওয়ার্ড পেল ৩০ কারখানা : পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের স্বীকৃতি পেল দেশের ৩০টি শিল্প-কারখান। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ প্রদান করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হলো। এখন থেকে প্রতিবছর এ পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এসব কারখানার প্রতিনিধিদের হাতে সনদ তুলে দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। গ্রিন অ্যাওয়ার্ড পাওয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ছয়টি ক্যাটাগরিতে মোট ৩০টি কারখানাকে এবার এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠান মনোনয়নের ক্ষেত্রে শ্রম আইন প্রতিপালন এবং পরিবেশসম্মত উৎপাদন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের মতো কমপ্লায়েন্স শর্ত প্রতিপালনের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া পণ্য এবং উৎপাদনে উদ্ভাবনী উদ্যোগকে বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে পুরস্কারপ্রাপ্ত ১৫টি কারখানা হচ্ছে রেমি হোল্ডিংস, তারাসিমা অ্যাপারেলস, প্লামি ফ্যাশনস, মিথিলা টেক্সটাইল, ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও, এআর জিন্স প্রডিউসার, করনি নিট কম্পোজিট, ডিজাইনার ফ্যাশন, ক্যানপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেল, গ্রিন টেক্সটাইল লিমিটেড, ফোর এইচ ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং, উইসডম অ্যাটায়ার্স, মাহমুদা অ্যাটায়ার্স, স্মোটেক্স আউটারওয়্যার ও অকো-টেক্স।

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের তিনটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও ইফাদ মাল্টি প্রডাক্টস। চাশিল্পের গাজীপুর চা বাগান, লস্করপুর চা বাগান, জাগছড়া চা কারখানা ও নেপচুন চা বাগান। চামড়াশিল্পের অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ও এডিসন ফুটওয়্যার। প্লাস্টিকশিল্পের বঙ্গ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস, অলপ্লাস্ট বাংলাদেশ ও ডিউরেবল প্লাস্টিক। এ ছাড়া ওষুধশিল্পের মধ্যে রয়েছে স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।



সাতদিনের সেরা