kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আবারও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

এমডি সংকটে সিএসই

অভিযোগ রয়েছে নামমাত্র মালিকানা থেকে পৃথক করা হলেও মূলত প্রতিটি ক্ষেত্রে বোর্ডের খবরদারিতে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ নেই সিএসইতে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এমডি সংকটে সিএসই

নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চেয়ে সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিয়োগ পাওয়া এমডিকে চাকরিচ্যুত করার পর আবার স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য নতুন প্রধান খোঁজা শুরু করেছে সিএসই বোর্ড। ২০১৪ সালে ডিমিউচুয়ালাইজেশন (ব্যবস্থাপনাকে মালিকানা থেকে পৃথককরণ) কার্যকর হওয়ার পর থেকে নিয়োগ পাওয়া তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মধ্যে দুজনকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সিএসইর তরফ থেকে বলা হচ্ছে, শর্ত অনুযায়ী এমডিরা দক্ষতা দেখাতে না পারার কারণেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে অভিযোগ রয়েছে নামেমাত্র মালিকানা থেকে পৃথক করা হলেও মূলত প্রতিটি ক্ষেত্রে বোর্ডের খবরদারির কারণেই এমডি টিকছে না সিএসইতে।

সিএসই সূত্র জানায়, গত ৫ ডিসেম্বর ওয়েবসাইটে এমডি নিয়োগের যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে তাতে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করতে বলা হয়েছে। ২০১৯ সালে তিন দফা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রায় আট মাস অপেক্ষার পর এমডি খুঁজে পেয়েছিল সিএসই। সেই এমডিকে নিয়োগের ১৯ মাস পর বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে চাকরিচ্যুত করে।

এবার কেমন এমডি চান—এমন প্রশ্নের জবাবে সিএসই পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চাইব এমন একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ সিএসইর নেতৃত্বাধীন সিএসইকে সঠিক পথে পরিচালনা করবেন। পুঁজিবাজারে সিএসইর হিস্যা অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন, বন্ড মার্কেট নিয়ে আসবেন। কমোডিটি মার্কেট বুঝবেন, বিভিন্ন দেশের কমোডিটি মার্কেট থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে তা সিএসইতে কাজে লাগাবেন। শুধু জ্ঞান থাকলে হবে না, কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে। ’

এদিকে ডিমিউচুয়ালাইজেশন কার্যকর হওয়ার পর নিয়োগ পাওয়া তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মধ্যে দুজন মেয়াদ শেষ করার আগেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এ নিয়ে সমালোচনায়ও পড়তে হচ্ছে সিএসই বোর্ডকে। আর প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদ নিয়ে এই টানাহেঁচড়ার প্রভাব পড়ছে সিএসই লেনদেনে। গত কয়েক বছরে পুঁজিবাজারে সিএসইর হিস্যা ১০ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

এর মধ্যে সাইফুর রহমান মজুমদার মেয়াদ পূর্ণ করলেও তাঁকে আর মেয়াদ নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং এমডি পদে থাকা অবস্থায় নতুন এমডি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকারান্তরে তাঁকে মেয়াদ শেষে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। অথচ সেই এমডিকেই প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (চিফ অপারেটিং অফিসার) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সিএসইর এমডি পদ নিয়ে এমন অস্থিরতা নিয়ে সমালোচনায়ও পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ নামেমাত্র মালিকানা থেকে পৃথক করা হলেও মূলত প্রতিটি ক্ষেত্রে বোর্ডের খবরদারিতে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগই নেই সিএসইতে।

বিদায়ের আগে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে সাইফুর রহমান মজুমদার নিজের প্রতিক্রিয়ায় পরিবেশ না থাকা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রতিবন্ধকতার কথা জানিয়েছিলেন।

আর ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর প্রথম নিয়োগকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন তিন বছর মেয়াদের এক বছর পূর্ণ করার এক দিন আগে পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সে সময় পদত্যাগপত্রে ‘কাজের পরিবেশ’ ও ‘অসহযোগিতার’ কথা উল্লেখ করেন তিনি। এই অসহযোগিতা মূলত বোর্ডের কাছ থেকেই ছিল বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সিএসইর সদ্য চাকরিচ্যুত এমডি মামুন-উর-রশিদ বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এমডি সিএসইতে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন না। কারণ ডিমিউচুয়ালাইজেশনের কথা বলা হলেও সিএসইতে যাঁরা সদস্য তাঁরাই মালিক। আইন-কানুনের ধার ধারেন না। আইন অনুযায়ী নিয়োগ হলেও আইনের মধ্যে থেকে কাজ করতে গিয়েই সমস্যায় পড়লাম। এখন বলা হচ্ছে, আমি ডাইনামিক ছিলাম না, দেশের প্রথম সারির একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি ছিলাম। তাহলে আমি ডাইনামিক না কিভাবে?’

বোর্ডের খবরদারির অভিযোগ প্রসঙ্গে সিএসই পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘বোর্ড অবশ্যই নাক গলাবে, না হলে বোর্ড কেন? ঢাকা এবং চট্টগ্রামে তাঁর জন্য দুটি গাড়ি থাকা সত্ত্বেও আরেকটি গাড়ি নিতে হবে কেন? বোর্ডকে না জানিয়ে তিনি ঢাকা অফিসের ইন্টেরিয়র নকশার কার্যাদেশ দেন কিভাবে? দুদকে তাঁর নামে দুর্নীতি মামলা হয়েছে, সিআইবি ক্লিয়ারেন্স নেই। শুনানির জন্য যখন তাঁকে ডাকা হলো তখন এসব প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি। ’



সাতদিনের সেরা