kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাজার সিন্ডিকেট ঠেকাতে তথ্য ব্যাংক হচ্ছে

আমদানিকারক থেকে বাজার ব্যবস্থাপনায় সর্বস্তরের মজুদ, পণ্যমূল্য, চাহিদা ও সরবরাহ ইত্যাদি তথ্য থাকবে

এম সায়েম টিপু   

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্তর্জাতিক বাজারদর বৃদ্ধি কিংবা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের ঘাটতিসহ নানা অজুহাতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তোলে। এই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের তদারকি সংস্থাগুলোর নানা কৌশল থাকলেও অসহায় বাজার জিম্মিকারী চক্রের কাছে।

এ প্রেক্ষাপটে সরকারের বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবাধ বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পণ্যের সরবরাহচক্রের (সাপ্লাই চেইন) তদারকিসহ তথ্য ব্যাংক করার উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিসিসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে অসম প্রতিযোগিতা রোধে বা প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বিসিসি পণ্য ও সেবার তথ্য সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বিনিয়োগকারী, উৎপাদনকারী, পাইকারি এবং খুচরা পর্যায়ে অংশীজনদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী কোনো কার্যক্রম দেখা গেলে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক বাজার পরিস্থিতি বের করা যাবে। বাজার অস্থিরতায় কারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

বাজার তদারকিতে তথ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, ‘দেশে ভোগ্যপণ্যর চাহিদা, উৎপাদন এবং মজুতের সঠিক চিত্র না থাকায় সহজেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া সরকারের নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই তদারকি করার। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সহজে আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধি বা পণ্যের ঘাটতি দেখিয়ে ভোক্তার পকেট কেটে নেয়। ’

বিসিসি সূত্রে জানা যায়, তথ্য সংগ্রহে তথ্য চেয়ে অংশীজনদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ১০টি কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৫৫টি পণ্য নিয়ে  প্রতিযোগিতা কমিশন কাজ করবে। এসব পণ্যের মাসভিত্তিক বিশ্লেষণ করা হবে। এ ছাড়া বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে এই তথ্য ব্যাংকের মাধ্যমে কারা করছেন এবং কিভাবে করা হচ্ছে, বিষয়গুলো সহজে চিহ্নিত করা যাবে। একই সঙ্গে অশুভ চক্র ঠেকাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারবে সরকারের তদারকি সংস্থাগুলো।  

জানা যায়, সম্প্রতি বিসিসি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক চিঠিতে পণ্য ও সেবার তথ্য ব্যাংক তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়, পণ্যর ও সেবার ডাটাবেস তৈরির লক্ষ্যে প্রতিযোগিতা কমিশন কাজ শুরু করেছে।

তথ্য অনুসারে প্রাথমিকভাবে দেশে উৎপাদিত বা আমদানীকৃত পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মাল্টা, আপেল, আঙুরসহ ৫০ থেকে ৬০টি পণ্যের তথ্য সংগ্রহ করবে। এ জন্য ১১টি তথ্যের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয়ভাবে বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা (২০১৯-২০ ও ২০২০-২১), উল্লেখিত পণ্যের বার্ষিক চাহিদা, জেলাভিত্তিক পণ্যের উৎপাদন এবং পরিমাণ, উল্লেখিত পণ্যগুলোর উৎপাদন খরচ (হেক্টর প্রতি), আমদানির পরিমাণ (২০১৯-২০ ও ২০২০-২১), আমদানি খরচ (২০১৯-২০ ও ২০২০-২১), আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকা, পণ্যগুলোর বিতরণব্যবস্থার বিবরণ এবং উল্লেখিত পণ্যের কেজিপ্রতি মাসিক বিক্রয়মূল্য বিবরণ (২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরের) ইত্যাদি।



সাতদিনের সেরা