kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্রবাস আয় দেড় বছরে সর্বনিম্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রবাস আয় দেড় বছরে সর্বনিম্ন

প্রবাস আয়ে পতন চলছেই। মূলত করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবাস আয়ের গতি ক্রমেই ধীর হয়ে পড়ছে। গত কয়েক মাস ধরে টানা কমছে অর্থনীতির অন্যতম এই সূচকটি। সর্বশেষ অক্টোবর মাসে দেশে প্রবাস আয় এসেছে মাত্র ১৫৫ কোটি ডলার, যা গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫.২৫ শতাংশ এবং আগের মাসের চেয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ কম। সব মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) প্রবাস আয় কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ফের হুন্ডি প্রবণতা বেড়েছে। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে কমে গেছে প্রবাস আয়।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরেও এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার পর থেকে প্রতি মাসেই প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি অর্থ পাঠাতে শুরু করেন। এমনকি করোনার সংক্রমণের মধ্যেও তাঁদের এই অর্থ প্রেরণ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু এখন করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরের নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন মাত্র ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের নভেম্বর মাসে এসেছিল ২১০ কোটি ২১ লাখ ডলার। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মে মাসে ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে। এর পর থেকে আর কোনো মাসে এর চেয়ে কম রেমিট্যান্স আসেনি। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১তম মে মাসেও প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান। ওই মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। তবে এর পর থেকেই রেমিট্যান্স কমতে শুরু করে, যা চলতি অর্থবছরের এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স আসে ১৯৪ কোটি ডলার। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৮৭ কোটি ১৪ লাখ ডলার, আগস্টে ১৮১ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার ও অক্টোবরে আসে ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।

সব মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে ৮৬০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২০.৯৭ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৮৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার।

করোনার মধ্যেই সদ্যঃসমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবাস আয়ে বড় রেকর্ড হয়। গেল অর্থবছরে প্রবাসীরা প্রায় দুই হাজার ৪৭৮ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন, যা কোনো এক অর্থবছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ছয় বিলিয়ন বা ৩৬ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেকর্ড ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে, যা একক মাস হিসেবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এ ছাড়া আগস্টে ১৯৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২১০ কোটি ২১ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ২০৫ কোটি ছয় লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি ১৯ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১৭৮ কোটি ডলার ও মার্চে ১৯১ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে।



সাতদিনের সেরা