kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কৃষিতে অর্গানিক দেশ হওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে গেল শ্রীলঙ্কার

সার ও কীটনাশক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা

বাণিজ্য ডেস্ক   

২২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিশ্বের প্রথম অর্গানিক কৃষির দেশ হওয়ার পরিকল্পনা থেকে অবশেষে সরে আসছে শ্রীলঙ্কা সরকার। গতকাল রবিবার দেশটির সরকার ঘোষণা দিয়েছে তারা সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানিতে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তা অবিলম্বে তুলে নেবে। খাদ্য উৎপাদনে জরুরি প্রয়োজনে এখন এগুলো ব্যবহার করা যাবে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে দেশটিকে শতভাগ অর্গানিক কৃষির দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন এ বছর।

বিজ্ঞাপন

তাই শস্য আবাদে জৈবসার উৎসাহিত করতে গত এপ্রিলে কীটনাশকসহ সব ধরনের রাসায়নিক সার আমদানি নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু এতে দেশটির কৃষি ও কৃষকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পর্যাপ্ত জৈবসারের অভাবে অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। এতে খাদ্য উৎপাদন কমে যায়।

বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, পুরো কৃষিকে জৈবসারনির্ভর করতে গিয়ে কৃষি উৎপাদন কমবে। অন্তত ধানের উৎপাদন কমতে বাধ্য। এটাই দেশটির প্রধান কৃষিপণ্য। এরই মধ্যে চালের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এর পাশাপাশি কমছে চায়ের উৎপাদনও। দেশটির চা বিশ্বখ্যাত এবং রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত। এদিকে করোনায় পর্যটনে ধস ও প্রবাসী আয়ের মন্দার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ে। এতে পণ্য আমদানি কমায় খাদ্য সংকটসহ জ্বালানি তেল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

খাদ্য সংকটের কারণে চাল, সবজি, চিনি, পেঁয়াজসহ অনেক খাদ্যপণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর পাশাপাশি গুঁড়া দুধ, কেরোসিন তেল এবং রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হয়। সুপারশপগুলো এখন ক্রেতাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য দিচ্ছে। যেমন—প্রতি গ্রাহককে পাঁচ কেজির ওপর চাল দিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সরকার দেশটির চা উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য সার আমদানিতে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল গত মাসে তা তুলে নিয়েছে। এর পরও কৃষকদের একটি বিক্ষোভের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে শ্রীলঙ্কার কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ‘সার, কীটনাশকসহ কৃষি উৎপাদনে ব্যবহার হওয়া সব ধরনের রাসায়নিক আমদানিতে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে নেওয়া হবে। ’ ফার্স্ট টিভি নেটওয়ার্ককে মন্ত্রণালয়ের সচিব উজিথ জয়াসিংহে বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে এখন আমরা সেসব রাসায়নিকের ব্যবহারে সুযোগ দেব যা জরুরি প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’ এএফপি।



সাতদিনের সেরা