kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

এনজিওর প্রতিনিধিত্ব ৫০%

নীতি প্রণয়নে উপেক্ষিত রাজস্ব আয়ের বড় খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মহামারিতে ঘাটতি পূরণে রাজস্ব আয়ের বড় খাতগুলোতে নজর দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৃহত্তর আয়কর ইউনিটের (এলটিইউ) অন্তর্ভুক্ত তামাক থেকে রাজস্ব আদায়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। গত অর্থবছরে এই খাত থেকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খাত থেকে সরকারের আয় হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। একক খাত থেকে জাতীয় কোষাগারের জন্য এই আয়ই সর্বোচ্চ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্বের প্রায় ১১ শতাংশ অর্জনে অবদান রাখে তামাক খাত; যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসামঞ্জস্যভাবে তামাক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও নীতিবৈষম্যের কারণে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আসছে না। তাই রাজস্ব খাতে অবদান রাখা চামড়া, সিগারেট, টেলিকম ইত্যাদি খাতের জন্য কোনো আইন, নীতি বা বিধি গ্রহণ করার জন্য একই পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত, যাতে আইনগুলো বাস্তবসম্মত হয় এবং ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি না করে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পাঁচ বছর ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বা বিধি সংক্রান্ত সব সভায়ই এনজিওদের আধিপত্য বেড়েছে, তামাকশিল্প প্রতিনিধিদের উপেক্ষা করা হয়েছে; যা সরকারের আইন, নীতি, বিধি তৈরির রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থী। যাদের জন্য আইন করা হয় তাদের মতামতের প্রতিফলন না থাকায় বাস্তবতার আলোকে এই বিধি তৈরি হচ্ছে না।

নীতিনির্ধারণে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ এবং ব্যক্তিদের মতামত নিলে তবেই নীতি বাস্তবসম্মত হয় এবং সরকার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারে বলে মনে করেন জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি মির্জা নূরুল গণী শোভন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো পলিসি, আইন প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সমিতি ও অংশীজনের অংশগ্রহণ খুব জরুরি। অন্যথায় আইন এককেন্দ্রিক ও দুর্বল হওয়ায় যথেষ্ট আশঙ্কা থাকে।’

তিনি বলেন, ‘চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা ২০১৯’ চূড়ান্তকরণের সময় শিল্প মন্ত্রণালয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার, যেমন—চামড়া গবেষণা ইনস্টিটিউট, চামড়া শিল্প নগরী-বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ছাড়াও এফবিসিসিআই, এমসিসিআইয়ের মতামত নিয়েই আইন চূড়ান্ত করেছিল।

সূত্র জানায়, গত মাসে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (২০১৩ সালে সংশোধিত)’ সংশোধনের জন্য একটি কমিটি ও একটি সাবকমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এই কমিটি ও সাবকমিটিতে বিভিন্ন এনজিওর উপস্থিতি ৫০ শতাংশের বেশি। কমিটির ১৯ জনের মধ্যে ১১ জন আর সাবকমিটির ১২ জনের মধ্যে ছয়জনই হচ্ছেন এনজিও ও বিদেশি দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধি।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে তামাকসংক্রান্ত নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখে ব্যাবসায়িক সংগঠন ‘টোব্যাকো ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া’। বিশ্বের ৬০ শতাংশ টোব্যাকো ট্রেডের নিয়ন্ত্রক চীন নীতি তৈরিতে ব্যবসায়ী অংশীজনের ভূমিকাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। যেখানে ভারত ও চীন অংশীজনদের গুরুত্ব দেয়, সেখানে বাংলাদেশে কী উদ্দেশ্যে এনজিওগুলো গুরুত্ব পায় তা রহস্যজনক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



সাতদিনের সেরা