kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু ২৬ অক্টোবর

দেশের সম্ভাবনা জানবে বিশ্ব

♦ ৩৮ দেশের ৫৫২ প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে
♦ দেশীয় প্রতিষ্ঠান ২৮১টি এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠান ২৭১টি
♦ সামিটে ৪৫০টি বিটুবি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের সম্ভাবনা জানবে বিশ্ব

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ অন্যরা

ধারাবাহিক জোরালো প্রবৃদ্ধি আর বিনিয়োগ সম্ভাবনায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাফল্য আসছে রপ্তানিসহ অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে। দেশের এসব সম্ভাবনা তুলে ধরে বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন।

মুজিবশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১’ নামে ভার্চুয়াল এই সম্মেলন। গতকাল রবিবার ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে এ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ‘সামিটে বাংলাদেশের অর্জন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি এবং সম্ভাবনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা হবে।’ এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, ডিসিসিআইয়ের সহসভাপতি এন কে এ মবিন, মনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিটি খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতি এখন একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিনিয়োগ পরিবেশও চমৎকার। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ, কভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও তা ৫.৪৭ শতাংশ ছিল। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ। এ লক্ষ্য সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।’

তিনি বলেন, ‘আজ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করার অবস্থান তৈরি হয়েছে। আমরা উভয় পক্ষ মিলে একাকার হয়েছি। যদিও আমি বাণিজ্যমন্ত্রী, তার পরও প্রায় ৪০ বছর ধরে ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলাম। সে জন্য কখনো কখনো আমি ভুলে যাই আমি বাণিজ্যমন্ত্রী, না ব্যবসায়ী। কারণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসলে তখন ওই (মন্ত্রীর) পরিচয়টি একটু ফেইল হয়ে যায়।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই সামিটে ৩৮টি দেশের ৫৫২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এর মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ২৮১টি এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠান ২৭১টি। সপ্তাহব্যাপী এই সামিটে ৪৫০টি বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এবারের বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিটে অবকাঠামো, আইটি, চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং, প্লাস্টিক পণ্য, এফএমসিজি (ফার্স্ট মুভিং কনজিউমার গুডস) এবং জুট ও টেক্সটাইল পণ্য থাকবে। ২৬ অক্টোবরে শুরু হয়ে সম্মেলনটি চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জাতিসংঘ থেকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে পূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ হব। এটি যেমন একটি সুখবর, তার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণে পরবর্তী সময়ে আমরা অনেক সুবিধাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হব, সে পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের এখনই উদ্যোগী হতে হবে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সম্ভাব্য দেশগুলোর সঙ্গে এফটিএ, পিটিএ স্বাক্ষরসহ নানা রকম কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হবে, যা আমাদের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানটি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রণীত ৫০টি কর্মসূচির মধ্যে একটি কর্মসূচি। এই অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে আমরা সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি। দেশ ও বিদেশের ৫৫২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত হবে। এটিই সর্বোচ্চসংখ্যক ব্যবসায়ীর সম্মেলন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে।’

সচিব বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের আমদানি ও রপ্তানি দেখলেই বোঝা যায় কভিডের নিম্নগতি কাটিয়ে কিভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। আমরা আরো উচ্চগতিতে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। অনেক অর্ডার পাচ্ছি বিভিন্ন রপ্তানি খাতে। এ সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে যদি আমাদের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারি, তাহলে আগামী দিনের বাংলাদেশ আরো দ্রুত এগিয়ে যাবে।’



সাতদিনের সেরা