kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অটোমেশনের আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দর

বেনাপোল প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অটোমেশনের আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দর

আমদানি পণ্যের সব তথ্য এখন কম্পিউটার ডাটাবেইসে এন্ট্রি হচ্ছে

বেনাপোল কাস্টম হাউসের পর এবার অটোমেশন সেবার আওতায় এসেছে বেনাপোল স্থলবন্দর। প্রায় দেড় বছর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পর এবার পূর্ণাঙ্গরূপে অটোমেশন সেবার আওতায় এসেছে দেশের সবচেয়ে বড় বন্দরটি। ফলে আমদানি পণ্যের সব তথ্য এখন কম্পিউটার ডাটাবেইসে এন্ট্রি হচ্ছে। অটোমেশন সেবা চালু হওয়ায় ঘরে বসেই কম্পিউটার আর মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। এর ফলে ভারত থেকে পণ্য আমদানি এবং খালাসে ফিরবে স্বচ্ছতা। এতে দ্রুত বাণিজ্য সম্পাদনের পাশাপাশি বেড়েছে নিরাপত্তা ও গতিশীলতা।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, দেশের স্থলপথে সবচেয়ে বড় আর বেশি রাজস্বদাতা বেনাপোল স্থলবন্দর। ১৯৭২ সাল থেকে বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপদ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে অনেক আগেই অটোমেশন পদ্ধতি চালু করেছে বেনাপোল কাস্টম হাউস। তবে বন্দরে অটোমেশন না থাকায় কাজের সমন্বয়ে ব্যবসায়ীদের বেশ বেগ পেতে হতো।

বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে বেনাপোল বন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে অটোমেশন কার্যক্রম চালু হয়। চলতি মাসে এসে পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়ায় এই অটোমেশন সেবা পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বন্দরের প্রশাসনিক ভবন, রাজস্ব দপ্তর, এন্ট্রি শাখা, ওয়্যারহাউস—সর্বত্রই অটোমেশন পদ্ধতিতে কাজ হচ্ছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা আমদানি এবং আট হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। আমদানি বাণিজ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। তবে এই বন্দরটি এত দিন আধুনিকায়নে পিছিয়ে ছিল। আগে শুল্ক ফাঁকি থেকে শুরু করে একজনের পণ্য অন্যজন নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বন্দরে। তবে এখন সে সুযোগ আর নেই। বন্দর অটোমেশন আওতায় আসায় ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই মোবাইলে সার্বক্ষণিক জানতে পারছেন আমদানি পণ্যের তথ্য। এতে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বেড়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘কাস্টমসের পাশাপাশি বন্দর অটোমেশন হওয়ায় বাণিজ্যে গতি ও স্বচ্ছতা বেড়েছে। আমদানিকারকরা তথ্য চাইলে দ্রুত সরবরাহ করতে পারি। তাঁরা ইচ্ছা করলে নিজেরাও আমদানির তথ্য মোবাইলে দেখতে পারবেন। তবে বন্দরের সঙ্গে কাস্টমসের অটোমেশন সংযোগ হলে আরো বেশি সুফল পাওয়া যাবে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, চট্টগ্রামের পর প্রথম বেনাপোল বন্দর অটোমোশনে যুক্ত হলো। ২০১৯ সালের শেষে দিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে পরীক্ষামূলক বেনাপোল বন্দরে অটোমেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়। গুগল ক্রোমে ঢুকে আমদানীকৃত পণ্যের ম্যানিফেস্টো নম্বর এন্ট্রি করে ওয়েভ অ্যাড্রেসে সার্চ দিয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক তাঁর পণ্যের অবস্থান নিশ্চিত হতে পারবেন।



সাতদিনের সেরা