kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা

ক্রেতায় সরগরম হোটেল-রেস্তোরাঁ

সজীব আহমেদ   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রেতায় সরগরম হোটেল-রেস্তোরাঁ

করোনা মহামারি কাটতে থাকায় সরগরম হচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁ। বাড়ছে ভিড়, আর তাতে ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন মালিকরা। দীর্ঘদিনের লকডাউনে হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ব্যাপক ধস নেমেছিল। বিপাকে পড়েন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। সব ধরনের বিধি-নিষেধ উঠে যাওয়ায় আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিপুল কর্মসংস্থানের এই খাত।

লকডাউনের মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখার অনুমতি থাকলেও বসে খাওয়ার সুযোগ ছিল না। শুধু অনলাইনে খাবার ডেলিভারি এবং পার্সেল করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সেবা চালু ছিল। দীর্ঘদিন পর গত ১১ আগস্ট থেকে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো খুলে দিয়েছে সরকার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার প্রথম ঢেউ কাটিয়ে উঠতে উঠতেই দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হন। ক্ষতির মুখে পড়ে অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। যার কারণে হোটেলের হাজার হাজার কর্মীকে চাকরি হারাতে হয়। চলতি মাসের শুরু থেকে অবস্থা খুবই ভালো যাচ্ছে। রাজধানীর ছোট-বড় প্রতিটি হোটেল-রেস্তোরাঁয় বেচাকেনা ভালো চলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে খুব দ্রুতই ব্যবসায়ীরা ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলেও তাঁরা জানান।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির তথ্য মতে, দেশের সব বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহর মিলে হোটেল-রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৬০ হাজার। আর এসবে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। সব মিলিয়ে রেস্তোরাঁ খাতে নির্ভরশীল সংখ্যা প্রায় দুই কোটি মানুষ।

গত রবিবার দুপুরে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভিড় দেখা গেছে। স্বাভাবিক অবস্থার চেয়েও বেশি ভিড় ছিল অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁয়। এসব রেস্টুরেন্টের কর্মীরাও ব্যস্ততার মধ্যে ছিলেন। তবে ভিড়ের কারণে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে খুব কমসংখ্যক মানুষকে দুপুরের খাবার খেতে দেখা গেছে। কর্মীদের শতভাগ মাস্ক পরতে দেখা যায়। রাজধানীর মধ্য বাড্ডা পিউর ফুড রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার নাজমুল হুদা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনায় বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে পড়েছিলাম। এখন সব ধরনের প্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ায় রাস্তায় স্বাভাবিক সময়ের মতোই মানুষজন চলছে, তাই রেস্টুরেন্টগুলোতে বিক্রি বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দ্রুতই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে। এখন বিক্রি খারাপ না, মানুষজন খেতে ভালোই আসছে। তবে করোনার আগের স্বাভাবিক সময়ে যেতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।’

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে সুলতান ডাইনের ম্যানেজার মোসাররাত হাসিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষ এখন জীবিকার জন্য বের হচ্ছে তাই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে আসছে। মানুষের মধ্যে করোনার ভয় আগের চেয়ে কমেছে। তাই খাবার খেতে আসার প্রবণতাও দিন দিন বাড়ছে। আস্তে আস্তে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা স্বাভাবিক হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আশা করছি, দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারব। আমাদের সব কর্মীই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করে যাচ্ছি।’ 

‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁর ম্যানেজার মো. আলমাস চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত মাসের শুরুর দিকেও বিক্রি খুব কম ছিল। এখন ‘কাচ্চি ভাই’ মোটামুটি ভালোই চলছে। এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় যেতে না পারলেও কাছাকাছি চলে গেছি। এরই মধ্যে স্কুল-কলেজ খোলা হয়েছে। সামনে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলে বিক্রি আরো বেড়ে যাবে। তখন হয়তো স্বাভাবিক অবস্থায় যেতে পারব।’

ম্যাগপাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মো. এনায়েত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় আমাদের বেচাকেনাও স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেছে। এখন মানুষের মধ্যে করোনার ভয় উঠে গেছে।’

রাজধানীর দক্ষিণ কুড়িল এলাকায় ‘গুড টাইম’ রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সাদ্দাম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন খুব ভালোই চলছে। করোনার ভয় কাটিয়ে মানুষজন পরিবার নিয়ে খেতে আসছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে করোনার আতঙ্ক কমে গেছে। যার কারণে মানুষ এখন রেস্তোরাঁয় যাচ্ছে। বড় পরিসরে আয়োজন না হলেও ছোট ছোট পরিসরে আয়োজন হচ্ছে। রাজধানীর সব হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো এখন খোলা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ঘুরে দাঁড়াতে। তবে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে সেটি কাটিয়ে উঠতে আরো অনেক সময় লাগবে।’



সাতদিনের সেরা