kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ব্যাংক খাতে নারী কর্মীর অনুপাতে বড় ধাক্কা

করোনার গত দেড় বছরে ব্যাংকে নারী কর্মীর অনুপাত কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ

জিয়াদুল ইসলাম   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাংক খাতে নারী কর্মীর অনুপাতে বড় ধাক্কা

করোনার মধ্যেই দেশের ব্যাংকগুলোতে কর্মী ছাঁটাই ও পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। এই তালিকা থেকে বাদ যাননি নারী কর্মীরাও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, করোনার গত দেড় বছরে ব্যাংকে নারী কর্মীর অনুপাত কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। শুধু নারী কর্মীই নন, এ সময়ে ব্যাংকে সার্বিক কর্মীর প্রবৃদ্ধিও কমে গেছে। দেশের তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লিঙ্গসমতা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, করোনার মধ্যে একদিকে কর্মী ছাঁটাই ও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, অন্যদিকে নতুন নিয়োগ আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি না পাওয়ায় নারী কর্মীর পাশাপাশি পুরুষ কর্মীর প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংকে জনবলের প্রবৃদ্ধিও কমেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শনে উঠে আসে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বেসরকারি ছয় ব্যাংকে তিন হাজার ৩১৩ জন কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন। এর মধ্যে ‘স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগ করেছেন তিন হাজার ৭০ জন। আর ১২ জন কর্মকর্তাকে ছাঁটাই, ২০১ কর্মকর্তাকে অপসারণ ও ৩০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাঁরা স্বেচ্ছায় পতদ্যাগ করেছেন তাঁদের বেশির ভাগই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের চাপে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। এমন অবস্থায় করোনা মহামারির সময়ে চাকরিচ্যুত বা পদত্যাগে বাধ্য হওয়া ব্যাংককর্মীদের চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লিঙ্গসমতা নিয়ে প্রতি ছয় মাস পর পর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত দেশের ৬০টি ব্যাংকে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫১৩ জন। অর্থাৎ ব্যাংকে নারী কর্মীর অংশগ্রহণ এখন ১৫.৮০ শতাংশ। সেখানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকে নারী কর্মীর হার ছিল ১৮.৯৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত দেড় বছরে ব্যাংকে নারী কর্মীর অনুপাত কমেছে প্রায় ৩.১৯ শতাংশ। এ ছাড়া গত বছর পর্যন্ত ব্যাংকে নারী কর্মীর অনুপাত ছিল ১৮.৩২ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুন শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে নারী কর্মীর অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৫.৮৭ শতাংশ। এই ব্যাংক ছয়টিতে পুরুষ কর্মী ৪২ হাজার ৫৪৪ জন এবং নারী কর্মীর সংখ্যা আট হাজার ২৩ জন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ব্যাংক তিনটিতে নারী কর্মীর অনুপাত ছিল ১৭.৭৯ শতাংশ। গত জুন শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংকে নারী কর্মীর অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৩.৭৪ শতাংশ। এই ব্যাংক তিনটিতে পুরুষ কর্মী ১১ হাজার ৪৭৭ জন এবং নারী কর্মীর সংখ্যা এক হাজার ৮২৮ জন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ব্যাংক তিনটিতে নারী কর্মীর অনুপাত ছিল ১৫ শতাংশ। জুন শেষে বেসরকারি ৪১টি ব্যাংকে নারী কর্মীর অনুপাত ১৫.৭২ শতাংশ। এই খাতের ব্যাংকগুলোয় পুরুষ কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৯৫ জন এবং নারী কর্মীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭২২ জন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোয় নারী কর্মীর অনুপাত ছিল ১৯.৪৮ শতাংশ। বিদেশি ৯টি ব্যাংকে নারী কর্মী বর্তমান অনুপাত ২৪.৭৭ শতাংশ। এই ব্যাংকগুলোয় পুরুষ কর্মী দুই হাজার ৮৫৫ জন এবং নারী কর্মী ৯৪০ জন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এই খাতের ব্যাংকগুলোয় নারী কর্মীর অনুপাত ছিল রেকর্ড ৩৯.৫৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ে পদক্রম ও বয়সভেদে নারী কর্মীদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সূচনা পর্যায়ে নারী কর্মী অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। গত জুন পর্যন্ত এই হার ১৬.০২ শতাংশ। মধ্যবর্তী পর্যায়ে নারী আছেন ১৫.১৫ শতাংশ। আর উচ্চ পর্যায়ে রয়েছেন ৮.৯১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, ব্যাংকগুলোয় ৩০ বছরের কম বয়সী যেসব কর্মী রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২১.০৮ শতাংশ নারী। ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কর্মীদের মধ্যে নারীর হার ১৬.২৮ শতাংশ। আর ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ৮.২৭ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা