kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অবকাঠামো ও জ্বালানিতে সৌদির বড় বিনিয়োগ আসছে

মাসুদ রুমী   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অবকাঠামো ও জ্বালানিতে সৌদির বড় বিনিয়োগ আসছে

এবার সৌদি আরব থেকেও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসছে। ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা আছে দেশটির। সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের আওতায় বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ আসতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ১৩৭টি পণ্যের সৌদি বাজারে প্রবেশের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধার ব্যাপারেও ইতিবাচক দেশটি। আগামী ২৯ নভেম্বর সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) সৌদি বিনিয়োগে খসড়া সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হওয়ার পর্যায়ে আছে। শিগগিরই এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সৌদি বিনিয়োগের সুযোগ প্রসারিত হবে। বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল খাতভিত্তিক বিনিয়োগের ওপর সৌদি আরব গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বেসরকারি বাণিজ্য সংগঠনের নেতাসহ ২২ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফর করে। আট দিনের সফল সফর শেষে শনিবার দেশে ফিরেছে প্রতিনিধিদল।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সৌদিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌদি আরব সফরে সৌদি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মাজিদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাসাবির সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাসভায় সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে সালমান এফ রহমান বাংলাদেশের ১৩৭টি পণ্যের সৌদি বাজারে প্রবেশের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা চাইলে ইতিবাচক মনোভাব দেখান তিনি। এ সময় সালমান এফ রহমান ২০১৮ সালে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানান। এসব সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।’

সূত্র জানায়, দুই দেশের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের বিষয়ে ২০১৮ সালের প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর দ্রুত হবে। সালমান এফ রহমান বলেন, ‘সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে অনুরোধ জানালে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী ইতিবাচক মতামত পোষণ করেছেন। এই তহবিলের আওতায় ও বাংলাদেশে ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ ও কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনিয়োগ আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু প্রজেক্টে সৌদি বিনিয়োগ এসেছে, আরো আসার সম্ভাবনা আছে। চট্টগ্রামে ট্রান্সফরমার তৈরি করার জন্য তারা জেমকোতে বিনিয়োগ করছে। অ্যাকুয়া পাওয়ারে তারা বিনিয়োগ করেছে। তারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বন্দর উন্নয়ন, ট্রান্সপোর্ট ও লজিস্টিকে বিনিয়োগে তাদের আগ্রহ আছে। সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করতে চায়। আমরা জায়গা দিতে পারলে এই খাতেও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে। এ ছাড়া এলএনজিতেও তাদের আগ্রহ আছে। তাদের বড় বড় কয়েকটি ফান্ড আছে, সেখান থেকে তারা বিনিয়োগ করতে পারে। আমরা তিনজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি।’ তিনি বলেন, ‘একটি এমওইউ ঝুলে ছিল। এটা তারা সম্মতি দিয়েছে, যেকোনো সময় স্বাক্ষরিত হবে।’ 

জানা গেছে, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল ফালিহর সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেন। সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ প্রসারিত হবে। আমরা দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিনিধিদল বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রীকে আগামী নভেম্বরের ২৮ ও ২৯ তারিখে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের অনুরোধ জানালে মন্ত্রী খালিদ আল ফালিহ তা সাদরে গ্রহণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের পরিবহনমন্ত্রী সালেহ আল জাসের সঙ্গেও বৈঠক করেছি। এ সময় আমরা ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে সৌদি বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছি। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পরিবহন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। এর অধীনে দক্ষতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র অনুসন্ধান করে যেতে পারে। এ সময় সৌদি পরিবহনমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে বৈঠকেও উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে।’

সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের ডেপুটি গভর্নর ইয়াজিদ আল হামিদ বলেছেন, বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) অথবা বিজনেস টু গভর্নমেন্ট (বিটুজি) মডেলে বাংলাদেশে সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড-পিআইএফ হতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। ঢাকা-পায়রা বন্দর রেলপথ নির্মাণে সৌদি পিআইএফ থেকে অর্থায়নের অনুরোধে ডেপুটি গভর্নর জানান, বাংলাদেশ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেলে অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।



সাতদিনের সেরা