kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রাঙামাটির পাহাড় যেন আকাশ ছুঁয়েছে

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এশিয়ার পর্যটন

♦ ৫ লাখ ফ্রি ট্যুরিস্ট ভিসা দেবে ভারত
♦ পুনরায় আগমনী ভিসা চালু করেছে নেপাল
♦ কভিড নেগেটিভ হলে কোয়ারেন্টিন ছাড়াই শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ
♦ এ বছর মালদ্বীপে ৮ লাখের বেশি পর্যটক এসেছে

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এশিয়ার পর্যটন

করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করায় পর্যটন খাত খুলে দিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশ। ফলে আবারও দেশি-বিদেশি পর্যটকে মুখর হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের পাহাড়, সমুদ্রসহ নান্দনিক সব গন্তব্য। ওয়াল্ট্র ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন খাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়া। ২০১৯ সালে এ অঞ্চলের চার কোটি ৭০ লাখ কর্মসংস্থান ছিল পর্যটন খাতে। কিন্তু মহামারিতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাত প্রায় বন্ধ ছিল এক বছরের বেশি সময়। এতে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে এই খাতে।

এ অঞ্চলের বড় দেশ ভারত করোনায় প্রাণহানির পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেড় বছর বন্ধ থাকার পর দেশটি বিদেশিদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেশটির কর্মকর্তারা জানান, করোনার প্রকোপ কমে আসায় আন্তর্জাতিক অতিথিদের জন্য পর্যটন খাত খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ খাতকে জাগিয়ে তুলতে শিগগিরই পাঁচ লাখ ফ্রি ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়ার ঘোষণা আসবে। এই ফ্রি ভিসা দেওয়া হবে ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে ভিসা দেওয়া হবে।

২০১৯ সালে ভারতে পর্যটক এসেছিল এক কোটি ২৫ লাখ। কিন্তু গত বছরের মার্চ থেকে দেশটিতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউনসহ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দেশটির কর্মকর্তারা জানান, নয়াদিল্লি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলছে, যাতে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মতো বড় গন্তব্যগুলো থেকে পর্যটক আসতে শিডিউল ফ্লাইট শুরু হয়।

প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোও। চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে দেশে কঠোর বিধি-নিষেধ জারি হলে কয়েক মাসের জন্য ঘরবন্দি হয়ে পড়ে মানুষ। গত ১৯ আগস্ট সরকার যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও ৫০ শতাংশ ধারণক্ষমতা ব্যবহার করে সব ধরনের পর্যটনকেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র খোলার অনুমতি দেয়। এতে ছুটি কাটাতে ভ্রমণে যাওয়া শুরু করেছে মানুষ। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, পাহাড় ও অন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক পর্যটনে গুরুত্ব দিতে হবে জানিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব সৈয়দ গোলাম কাদের বলেন, ‘পর্যটনের গতি-প্রকৃতি নিয়ে পুরো বিশ্ব নতুন নতুন ভাবনার দিকে দৃষ্টি ফেলছে। করোনা যে-ই একটু করুণা দেখাল, সঙ্গে সঙ্গে যে আলোচনাটা সামনে চলে এলো, বোদ্ধারা বলতে থাকলেন বাঁচার পথ অভ্যন্তরীণ পর্যটন। এটা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশ সব সময় ভেবেছে অভ্যন্তরীণ বা ডমেস্টিক ট্যুরিজমই হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত। ইউএনডাব্লিউটিওর সাবেক মহাসচিব তালেব রিফাই বললেন ডমেস্টিক ট্যুরিজম অর্থাৎ আঞ্চলিক পর্যটন। ইউরোপ যখন খুলে দিতে চাইল, সেটার প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রতিবেশী দেশে বেড়াতে যাওয়া।’ করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করায় টিকাপ্রাপ্ত বিদেশি পর্যটকদের জন্য আগমনী (অন অ্যারাইভাল) ভিসা পুনরায় চালু করেছে নেপাল। গত সপ্তাহে নেপালের পর্যটন খাত খুলে দেওয়া হয়েছে। যেসব বিদেশি টিকা গ্রহণ করে আসবে, তাদের আর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।

গত মাসে পর্যটন খুলে দিয়েছে ভুটানও। দেশটি সম্প্রতি করোনার পর প্রথম বিদেশি পর্যটককে ঢুকতে দিয়েছে। তবে ওই আমেরিকান অতিথিকে তিন সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে। ভুটান করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে দেশটিতে কভিডে আক্রান্ত হয়ে মাত্র তিনজন মারা যায়। ভুটানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর হাজারো পর্যটক সেখানে ভিড় জমায়। গত জুলাই থেকে টিকাপ্রাপ্ত পর্যটকরা শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বিমানবন্দরে পৌঁছার পর করোনা পরীক্ষায় যদি নেগেটিভ আসে তবে তাদের কোয়ারেন্টিন ছাড়াই শ্রীলঙ্কায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এ বছর করোনা মহামারির মধ্যেও বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত ছিল ভারত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ। এ বছরের শুরু থেকে এই পর্যন্ত দেশটিতে আট লাখের বেশি পর্যটক এসেছে। ২০২১ সালে দেশটি মোট ১৩ লাখ পর্যটককে স্বাগত জানাতে চায়। ইউএনডাব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি-মে এই পাঁচ মাসে বিশ্বে পর্যটক আগমন ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৮৫ শতাংশ। এশিয়ায় কমেছে ৯৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কমেছে ৯০ শতাংশ। সূত্র : এএফপি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।



সাতদিনের সেরা