kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সয়াবিন খইল রপ্তানি বন্ধ চান মিল মালিকরা

♦ রপ্তানির খবরে দেশের বাজারে সয়াবিন খইলের দাম কেজিতে ১০-১২ টাকা বেড়েছে
♦ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পোলট্রি খাদ্যের দামও বেড়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সয়াবিন খইল রপ্তানি বন্ধ চান মিল মালিকরা

দেশের চাহিদা না মেটাতে পারার পরও ভারত ও নেপালে সয়াবিন মিল (সয়াবিনের খইল) রপ্তানি হচ্ছে। তাই দ্রুত পণ্যটির রপ্তানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে ফিড মিল মালিকদের সংগঠন ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব)। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, ‘আমাদের উদ্বৃত্ত থাকলে রপ্তানি করতে কোনো অসুবিধাই ছিল না, কিন্তু দেশের চাহিদা যখন দেশীয়ভাবে পূরণ করা যাচ্ছে না; তখন রপ্তানির সিদ্ধান্ত কেন?’ গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এ সময় বক্তব্য দেন ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান, বাংলাদেশ পোলট্র্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মসিউর রহমান, সহসভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ভারত ও নেপালে রপ্তানি হচ্ছে পোলট্র্রি, ডেইরি, মৎস্য ও প্রাণিখাদ্য তৈরির অন্যতম উপাদান সয়াবিন মিল। এই রপ্তানির খবরে স্থানীয় সয়াবিন মিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন মিলের দাম কেজি প্রতি ১০-১২ টাকা বাড়িয়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সয়াবিন মিল সংকটের কারণে ফিড মিলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে; উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে পোলট্রি, ডেইরি ও প্রাণিখাদ্যের দামও বেড়ে গেছে।’

তারা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভারতে সয়াবিন মিল রপ্তানি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আমরা বাণিজ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধের জন্য আবেদন জানাই। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধের সুস্পষ্ট মতামতসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিলে এগুলোর কোনো কিছুই আমলে না নিয়ে একতরফাভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানির সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। ভারত ও নেপালে সয়াবিন মিলের রপ্তানি চালু রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সয়াবিন মিল বন্ধের আদেশ দিলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের কারণে তা ফের প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ফিড মিলগুলোতে ব্যবহৃত কাঁচামালের বেশির ভাগই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বর্তমানে চাহিদাকৃত ‘সয়াবিন মিল’ দেশীয় সয়াবিন তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও ভারত, আমেরিকা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা প্রভৃতি দেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। দেশে ‘সয়াবিন মিল’-এর মোট চাহিদা বছরে প্রায় ১৮-২০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৭৫-৮০ শতাংশ দেশীয় সয়াবিন তেল উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অবশিষ্ট ২০-২৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে কাঁচামালের দাম ৩৪.২২ শতাংশ বেড়েছে। কাঁচামালের দাম ৩০-৩৫ শতাংশ বাড়লে খুব স্বাভাবিক নিয়মেই ফিডের দাম ২০-২৫ শতাংশ বাড়ার কথা, কিন্তু খামারিদের কথা বিবেচনায় রেখে ফিড প্রস্তুতকারক কম্পানিগুলো ফিডের দাম মাত্র ৬-৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। এতে দেশের সব ফিড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে। বেশ কিছু ছোট ও মাঝারি ফিড মিল বন্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় দ্রুততম সময়ে সয়াবিন মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত না নিলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। ডিম, দুধ, মাছ, মুরগি, গরু-ছাগলের মাংসের দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।



সাতদিনের সেরা