kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সতর্কবার্তায়ও লোভের বিনিয়োগ

সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের শেয়ারদর তিন মাসে বেড়েছে তিন গুণ

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সতর্কবার্তায়ও লোভের বিনিয়োগ

পুঁজিবাজারে জ্বালানি খাতের চট্টগ্রামভিত্তিক সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের শেয়ারদর গত ২২ জুন ছিল ৮২ টাকা ৩০ পয়সা। ঠিক তিন মাস পর গতকাল মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে কম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়ায় ২৬২ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ মাত্র ৫৩ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে না পারা একটি কম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে তিন গুণের বেশি। উৎপাদন বন্ধ থাকায় সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে যে কম্পানির ইপিএস নেতিবাচক সে কম্পানির শেয়ার নিয়ে এমন অস্থিরতাকে লোভের বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছেন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কম্পানি সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা থেকে কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে পুঁজিবাজারে জ্বালানি খাতের চট্টগ্রামভিত্তিক সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের। ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাবসায়িক লোকসানের কারণে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাবসায়িক মন্দার কারণে এর আগে টানা তিন বছর ২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে, যে কারণে পুঁজিবাজারে শেয়ারের অবস্থান ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। গতবারের মতো এবারও যদি লভ্যাংশ না দেয় তাহলে কম্পানিটির শেয়ার ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘বি’ থেকে ‘জেড’-এ চলে যাবে। যদিও গত মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরের তৃতীয়ার্ধে কম্পানির প্রকাশিত ইপিএস এসেছে -১.৯৭ টাকা।

গত ১৫ মাস ধরে যে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ, তেমন কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই জেনেও এমন একটি কম্পানির শেয়ার কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী। গত জুলাই থেকে অস্বাভাবিক দাম বাড়া জ্বালানি খাতের সিভিও পেট্রোকেমিক্যালকে তিন দফা নোটিশ দিয়ে কারণ জানতে চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে প্রথম দফা নোটিশ দেয় ১৪ জুলাই। এরপর ১৮ আগস্ট এবং সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর ডিএসই থেকে দাম বাড়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। আর বরাবরের মতোই কম্পানি থেকে দাম বাড়ার স্পর্শকাতর কোনো ইস্যু নেই বলে জানানো হয়। কিন্তু তাতেও দমাতে পারেনি চিটাগাং ভেজিটেবলের শেয়ারের দাম বৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা।

চিটাগাং ইনভেস্টরস ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ কাদের বলেন, ‘একেবারে গুজবের ওপর ভিত্তি করে এসব কম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ে। শেয়ার কম হওয়ায় এই কম্পানির শেয়ার নিয়ে জুয়া খেলতে সুবিধা। মূলত জুয়াড়িদের টোপে পড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোভের বিনিয়োগ করছেন। নাহলে এই মুহূর্তে যে কম্পানি থেকে কিছু পাওয়ার আশা নেই, সেই কম্পানির শেয়ার কী করে তিন মাসে তিন গুণ হয়!’ তিনি এমন কম্পানির দর বৃদ্ধির লাগাম টানতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আলাদা সার্কিট ব্রেকার বসানোর দাবি জানান।

যদিও দাম বাড়ার মতো কোনো স্পর্শকাতর ইস্যু নেই জানিয়ে সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের কম্পানি সচিব খাজা মঈন উদ্দিন হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কেন দাম বাড়ছে আমরা নিজেরাও জানি না। গত তিন মাসে ডিএসই থেকে আমাদের তিনবার নোটিশ দিয়ে দাম বাড়ার কারণ জানতে চেয়েছে। আমরা দাম বাড়ার মতো স্পর্শকাতর কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি ১৮টি কনডেনসেট প্লান্ট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে আমাদের কারখানাটির উৎপাদনও গত বছরের ১ জুলাই থেকে একেবারে বন্ধ। তবে শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী কনডেনসেট কারখানা চালুর ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। যদিও এ ব্যাপারে আমাদের কাছে দাপ্তারিক কোনো তথ্য নেই।’



সাতদিনের সেরা