kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চোরাচালান কমায় সুপারির বৈধ আমদানি বেড়েছে

♦ ২০২০-২১ অর্থবছরে সুপারি আমদানি হয়েছে ৩৪ হাজার ৫৭৩ টন
♦ ২০১৯-২০ অর্থবছরে হয়েছে ১২,৮২৩ টন
♦ আমদানি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চোরাচালান কমায় সুপারির বৈধ আমদানি বেড়েছে

সুপারি প্রধানত পান খাওয়ার কাজেই ব্যবহৃত হয়। দেশে পান খাওয়া মানুষের সংখ্যা এত বেশি না বাড়লেও হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে সুপারি আমদানি। বিশেষ করে করোনাকালেই সুপারি আমদানিতে রেকর্ড ছুঁয়েছে। নিকট অতীতে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এত বিপুল পরিমাণ সুপারি আমদানির রেকর্ড নেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, হঠাৎ করেই এত সুপারি আমদানি বাড়ার কারণ কী, কোথায় গেল আমদানি হওয়া এত বিপুল পরিমাণ সুপারি।

উত্তরে খাতুনগঞ্জের সুপারি আমদানিকারক অজয় কৃষ্ণ দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে স্থলপথ দিয়ে সুপারি চোরাচালান বন্ধের সুফল হচ্ছে বৈধভাবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি। আগের সুপারির চাহিদার বেশির ভাগই মিটত স্থল সীমান্তে চোরাইপথে, শুল্ক ছাড়াই ঢুকত সব সুপারি। তখন বৈধভাবে সুপারি আমদানি করতে গিয়ে আমরা পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিলাম। আমদানি প্রায়ই বন্ধই করে দিয়েছিলাম।’

সুপারি আমদানিতে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেসার্স নীল কৃঞ্চ দাশ মজুমদার। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর একাই ৩০০ থেকে ৪০০ কনটেইনার (পাঁচ হাজার টন) সুপারি আমদানি করত। ২০১৫ সালের পর থেকে আমদানি কমাতে কমাতে ২০১৯ সালে এক হাজার টনে নামিয়ে আনে প্রতিষ্ঠানটি।

আমদানি কমানোর কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার অজয় কৃষ্ণ দাশ মজুমদার বলেন, ‘২০১৯ সালে প্রতি কেজি আমদানীকৃত সুপারি খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। এর মধ্যে কেজিতে ১৬০ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে সরকারকে। অথচ চোরাইপথে যারা সুপারি আনছে তারা প্রথমত কম দামে কিনছে আর কোনো শুল্ক ছাড়াই অবৈধভাবে দেশে আনছে। তারা কেজি ২৩০ টাকায় বিক্রি করছিল। আমরা বৈধপথে, বৈধভাবে সরকারকে রাজস্ব দিয়েও এক অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে তখন আমদানি কমাতে বাধ্য হয়েছিলাম।’

তিনি আরো বলেন, চোরাকারবারিরা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে সুপারি সংগ্রহ করে মিয়ানমারে নিয়ে গুদামজাত করে। সেখান থেকে ভারতের আসাম-মেঘালয় দিয়ে সিলেট সীমান্ত হয়ে দেশে প্রবেশ করায়। সিলেটের বিভিন্ন বাজারে দেদার বিক্রি হতো এসব সুপারি।

পরে কালের কণ্ঠসহ একাধিক জাতীয় দৈনিকে চোরাচালান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়ে। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ চোরাচালানিদের নিয়ে বড়সড় তদন্ত চালাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। চোরাচালানে জড়িত পশ্চিমবঙ্গের অনেক শীর্ষ রাজনৈতিক কর্মীও ধরা পড়েছেন। এর পর থেকেই মূলত গরুসহ সুপারি চোরাচালান কমে আসে।

চোরাচালানের কারণে আট বছর আগে সুপারি আমদানি ছেড়ে দিয়েছেন জানিয়ে আমদানিকারক আবু বকর বলেন, ‘এখন দেখছি সুপারির বাজার আসল ব্যবসায়ীদের হাতে ফিরেছে। বাজার দেখে চিন্তা করব নতুন করে আমদানি করব কি না।’

চোরাচালান কমে আসায় বৈধভাবে সুপারি আমদানির প্রমাণ পাওয়া যায় চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যে। শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই ২০২০-২১ অর্থবছরে সুপারি আমদানি হয়েছে ৩৪ হাজার ৫৭৩ টন; শুল্কসহ আমদানিমূল্য ছিল এক হাজার কোটি টাকার বেশি। আর শুধু শুল্ক পেয়েছে ৪৬৬ কোটি টাকা। এর আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুুপারি আমদানি হয়েছিল মাত্র ১২ হাজার ৮২৩ টন। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় সুপারি আমদানি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সহকারী কমিশনার বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর পর রাজস্ব প্রদানের শীর্ষ ২০ পণ্যের তালিকায় ১৩তম স্থানে সুপারি রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, চোরাচালান বন্ধ হওয়ায় বৈধভাবে সুপারি আমদানি বেড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। গত অর্থবছরের তুলনায় এই অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে ১৭০ শতাংশ।’

সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও দেশে বছরে দেড় লাখ টনের বেশি সুপারির প্রয়োজন বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। বছরে এই চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয় দেশে। বাকি ৬০ শতাংশ আমদানি করেই চাহিদা মেটানো হয়। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে সুপারি আমদানি করেই চাহিদা মেটানো হতো।



সাতদিনের সেরা