kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আয়োজিত কর্মশালায় পরিকল্পনামন্ত্রী

সব নাগরিকের তথ্য নিয়ে হবে এনপিআর

সব নাগরিকের জনতাত্ত্বিক ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এই রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে। -পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব নাগরিকের তথ্য নিয়ে হবে এনপিআর

উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও জনসাধারণের তথ্য নিয়ে একটি জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্ট্রার (এনপিআর) তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এখানে সবার ব্যক্তিগত সব তথ্যই থাকবে। শূন্য বছর থেকে শুরু করে সব বয়সী নাগরিকের জনতাত্ত্বিক ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এই রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে। তাই ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এসইসি সম্মেলনকক্ষে এনপিআর তৈরি উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ তাগিদ দেন। কর্মশালায় পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘যে প্রেজেন্টেশন দেখলাম তাতে মনে হচ্ছে, এটা একটা কঠিন কাজ। এ ধরনের রেজিস্ট্রার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে সাজিয়ে-গুছিয়ে উপস্থাপন করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। রেজিস্ট্রার খাতে ওভারল্যাপিং না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় যাতে না ঘটে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশি সংস্থাগুলো আমাদের তথ্য নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। মানুষের প্রাইভেসি রক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ‘এটা একটা মাইলফলক হবে। এখানে নাগরিকদের সব তথ্যই থাকবে। এটা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে ডুপ্লিকেশন, ওভারল্যাপিং বা এ ধরনের বিষয়গুলো যাতে না হয়। বেইস ইয়ার ডাটা দ্রুত ঠিক করা দরকার। হাউসহোল্ড ডাটাবেইস, এনআইডি ডাটাবেইস, জনশুমারি এবং এনপিআর সবই কিন্তু কাছাকাছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এনপিআর ইউরোপের অনেক দেশ ও ভারতের অনেক রাজ্যেই রয়েছে। নেদারল্যান্ডসে এই এনপিআরের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। সেখানকার নাগরিকরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার জন্য আইন পরিবর্তন করতে বলেছিল। বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্য বাণিজ্যিকীকরণ হবে না। আমাদের এখানেও হয়তো আইনের পরিবর্তন করা লাগতে পারে।’ তিনি বলেন, জটিলতা ও সময় বাঁচাতে সব অথরিটির সঙ্গে বসে সমন্বয় করতে হবে।

এ সময় বিবিএসের পরিচালক ড. মো. শাহাদত হোসেন বলেন, ‘নতুন এনপিআরে শূন্য থেকে শুরু করে সব বয়সী বাসিন্দার জনতাত্ত্বিক ও বায়োমেট্রিক তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি প্রত্যেকের জন্য একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হবে। এর ফলে প্রত্যেককে সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এই তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে সব ধরনের জনমিতিক পরিসংখ্যান, আগমন-বহির্গমন, জন্ম-মৃত্যু, বিয়ে-তালাক প্রভৃতি তথ্য-উপাত্ত প্রস্তুত করা সম্ভব।’

আরো বক্তব্য দেন পরিকল্পনাসচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারি, আইএমইডির সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, বিবিএসের মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিরা।

 



সাতদিনের সেরা