kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম বন্দরে আগস্টে বড় অগ্রগতি

৪৭% জাহাজ ভিড়েছে দিনে দিনেই

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৪৭% জাহাজ ভিড়েছে দিনে দিনেই

বন্দর জলসীমায় পৌঁছার পর পণ্যভর্তি একটি কনটেইনার তিন দিন অপেক্ষা শেষে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারত; এটিই ছিল স্বাভাবিক। জাহাজ পরিচালনাকারী সেটি মেনে নিয়েই জাহাজের শিডিউল ঠিক করত। আর বন্দর ব্যবহারকারীরাও তিন দিন সময় মাথায় রেখেই পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া করত।

গত জুলাই মাস পর্যন্তও সেভাবেই চলছিল দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর। কিন্তু আগস্ট মাসে জাহাজ পরিচালনায় বিশাল এক উন্নতি দেখা গেছে এই বন্দরে। হিসাব কষে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে ২৯ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার জাহাজ এসেছে ১৬৮টি। সেই কনটেইনার জাহাজের ৪৭ শতাংশই ভিড়েছে দিনে দিনেই। অর্থাৎ বহির্নোঙরে বা বন্দর জলসীমায় পৌঁছার পর অপেক্ষা ছাড়াই ওই পরিমাণ জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পেরেছে। ৩৬ শতাংশ জাহাজ জেটিতে ভিড়েছে এক দিন অপেক্ষার পর। প্রায় ১২ শতাংশ জাহাজ ভিড়েছে দুই দিনে। আর তিন দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়েছে মাত্র ৪ শতাংশ জাহাজ।

নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ আসা-যাওয়ার এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন বিদেশি শিপিং লাইন পিআইএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহীর। বর্তমানে তিনি সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি জাহাজ বহির্নোঙরে পৌঁছার পর তিন দিন অপেক্ষা শেষে বন্দর জেটিতে ভিড়বে—আমাদের কাছে এটাই স্বাভাবিক। আগস্টের শুরুর দিকে দিনে দিনেই জেটিতে ভেড়ার তথ্য দেখেও মনে হচ্ছিল ধারাবাহিকতা থাকবে না। পরে আশ্চর্যজনকভাবে দেখি দিনে দিনেই জেটিতে ভেড়া জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে। তখন থেকে আরো যত্ন নিয়েই এসব তথ্য নিচ্ছিলাম। আর মাস শেষে সেই উন্নতির চিত্র দেখলাম।’

আবদুল্লাহ জহীরের মতে, তিন কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের এই বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দরের পারফরম্যান্স, পণ্য ডেলিভারি স্বাভাবিক করা এবং বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে আমদানি পণ্য স্থানান্তর করা।

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন করে কোনো জেটি-টার্মিনাল বাড়েনি; পণ্যবাহী জাহাজ আসাও কমে যায়নি। বন্দরের সক্ষমতাও রাতারাতি উন্নতি হয়নি। তাহলে কি কনটেইনার জাহাজ আসা কমেছে?

চট্টগ্রাম বন্দর পরিবহন বিভাগের তথ্যও বলছে, আগস্ট মাসে জাহাজ আসা কমেনি, উল্টো বেড়েছে। আর জাহাজে কি পণ্য আসার পরিমাণ কমেছে? সেই চিত্র বলছে, পণ্য আসার পরিমাণও কমেনি।

পরিবহন বিভাগের তথ্য মতে, আগস্ট মাসে পণ্য ওঠানামা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট মাসে আমদানি পণ্য ওঠানামা হয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার একক; রপ্তানি পণ্য ওঠানামা হয়েছে ৬৩ হাজার ৩৯২ একক। জুলাই মাসে পণ্য ওঠানামা হয়েছিল দুই লাখ ৪৩ হাজার ৩৮০ একক কনটেইনার। জুন মাসে হয়েছিল দুই লাখ ৬৩ হাজার একক; মে মাসে হয়েছিল দুই লাখ ৫৭ হাজার একক।

কিভাবে এই অগ্রগতি হলো—জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেখুন, আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি পণ্য ওঠানামা হওয়ার পরও সব কিছুই ছিল নিশ্চিন্ত। এর মূল কারণ হচ্ছে আগস্টে আমরা ১০টির বদলে ১২টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভিড়তে দিয়েছি; অফডরে পণ্য স্থানান্তর হয়েছে, ডেলিভারিও স্বাভাবিক ছিল। আর জেটিতে তিন দিনের মধ্যে পণ্য ওঠানামা শেষ করা নিশ্চিত করেছি।’

তিনি বলছেন, “আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘স্ট্যান্ডার্ড সিচুয়েশন’ হিসেবে দেখছি। আমরা চাই সব সময় সেটি অব্যাহত থাকুক।”

জাহাজ এক দিন বাড়তি বসে থাকলে আকারভেদে আট থেকে ১২ হাজার মার্কিন ডলার অতিরিক্ত গুনতে হতো। বিশ্বব্যাপী জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই ক্ষতির পরিমাণ ২০-২২ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ঠিক এই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় কমে যাওয়াটা বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য সৌভাগ্যের।

জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় এক দিন কমে এলে কী লাভ—জানতে চাইলে মেডিটেরানিয়ান শিপিং কম্পানির (এমএসসি) হেড অব অপারেশন আজমীর হোসাইন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, আমদানিকারক দ্রুত পণ্য হাতে পান, রপ্তানিকারক অনটাইমে পণ্য জাহাজীকরণের পর ক্রেতার হাতে পৌঁছতে পারেন আর জাহাজ মালিক-পরিচালনাকারীর জাহাজ পরিচালন খরচ কমে; একই সঙ্গে জাহাজের শিডিউল রক্ষা সম্ভব হয়। যেটা আমদানি-রপ্তানি দুই পক্ষের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ।



সাতদিনের সেরা