kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ তৌহিদুজ্জামান

তালায় ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তালায় ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ৮০ জন মানুষই কৃষিজীবী। জমিতে ধান ও সবজির পাশাপাশি অনেকেই জড়িয়েছেন বিভিন্ন রকম ফল চাষে। কলেজ শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান তাঁদের মধ্যে ব্যতিক্রম। তিনিই প্রথম তালায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেছেন। তাঁর দেখাদেখি অনেকে শুরু করেছেন ড্রাগন ফলের চাষ।

সরেজমিনে বাগান ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে সবুজের সমারোহ। প্রতিটি গাছে ঝুলছে তিন থেকে চারটি করে কাঁচা, পাকা ও আধাপাকা ড্রাগন ফল। বাগানে কাজ করছিলেন চার-পাঁচজন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করছিলেন। অন্যরা নিড়ানি দিয়ে আগাছা তুলছিলেন। প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতার প্রতিটি কংক্রিটের খুঁটি পেঁচিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ড্রাগন ফলের গাছ। জমিতে রয়েছে এক হাজার ১০০ খুঁটি। খুঁটি থেকে খুঁটির দূরত্ব সাড়ে সাত ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ছয় ফুট প্রস্থ স্থাপন করে গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিটি খুঁটিতে চারটি করে ড্রাগন ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। ড্রাগন ফল রোপণের এক বছরের মাথায় ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটি ড্রাগন ফল ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম করে ওজন হয়। প্রতি কেজি ফল পাইকারি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হয়।

তৌহিদুজ্জামান জানান, ইউটিউব দেখে শখের বশে তিনিই প্রথম উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেছেন। সাত বিঘা জমি বাৎসরিক এক লাখ ৪০ হাজার টাকা লিজ নিয়ে ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন। ফলের বাগান সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য মাসিক বেতনে দুজন কেয়ারটেকার নিযুক্ত করেছেন। তাঁরাই সব সময় ড্রাগন ফলের বাগান তদারক করেন। প্রকল্প শুরু থেকে ফল ওঠা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৩ লাখ টাকা। এরই মধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের কর্তব্যরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামীমুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে তালা উপজেলায় ড্রাগন চাষ করেছেন শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান। ড্রাগন ফলের চাষ শুরুর পর থেকেই কখন, কিভাবে গাছের পরিচর্যা নিতে হবে, সে বিষয়ে তাঁকে পরামর্শ দিয়ে আসছি। ড্রাগন ফল চাষে জৈব সার একটু বেশি লাগে। রাসায়নিক সার কম লাগে। তাই অধিক লাভ করা যায়।’

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন কালের কণ্ঠকে জানান, তালায় এই প্রথম বৃহৎ আকারে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ হয়েছে। আমি ড্রাগন ফলের বাগান পরিদর্শনে গিয়েছি। ফসলের মান অনেক ভালো, ড্রাগন একটি পুষ্টিকর ফল। এ ফলে রয়েছে অধিক পরিমাণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, যা মানবদেহের জন্য অনেক উপকারী।’