kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চীনা টিকা কিনতে ৮৪% অর্থ ছাড়

সজীব হোম রায়   

৩১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনা টিকা কিনতে ৮৪% অর্থ ছাড়

চীন থেকে দেড় কোটি ডোজ টিকা কিনতে আবারও অর্থ ছাড় করেছে সরকার। গত সপ্তাহে চতুর্থ কিস্তিতে আরো তিন কোটি ১৫ লাখ ডলার অর্থ ছাড় করা হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ২৬৮ কোটি ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর ফলে এখন পর্যন্ত ৮৪ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, গত ২৭ মে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে দেড় কোটি চীনা টিকা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ১৫০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ এক হাজার ২৭১ কোটি ৯৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা। মে মাসে টিকা কেনার অনুমোদন দেওয়ার পরের মাস থেকেই অর্থ ছাড় করা শুরু করে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনের তৈরি টিকার প্রথম চালান কিনতে ২৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। এর পরের মাস অর্থাত্ জুলাই মাসে দ্বিতীয় দফায় ২৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করে অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি আগস্ট মাসের শুরুতে তৃতীয় ধাপে ছাড় করা হয় ২৬৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সর্বশেষ আবারও মাসের শেষে ২৬৮ কোটি ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে এক হাজার ৬৩ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিনোফার্ম থেকে দ্বিতীয় কিস্তির ‘ভ্যাকসিন’ কিনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুকূলে তিন কোটি ১৫ লাখ মার্কিন ডলার ছাড় করা হলো। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৬৮ কোটি ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এই টাকা চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের অর্থ বিভাগের বাজেটে ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় তহবিল’ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিডিও বরাবর অথরাইজেশনের মাধ্যমে অগ্রিম প্রদান ও ব্যয়ের নির্দেশক্রমে সম্মতি দেওয়া হলো। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেখান থেকেই টিকা কিনতে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। চীনের সিনোফার্মের টিকা কিনতে এক হাজার ২৭১ কোটি টাকার পুরোটাই এই খাত থেকে ব্যয় করা হতে পারে। ইতিমধ্যে এই খাত থেকে টিকা কেনা বাবদ চলতি অর্থবছরে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

চতুর্থ কিস্তিতে ছাড়কৃত অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ দুটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ ও দ্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ অনুসরণসহ প্রযোজ্য আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই অর্থ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট কোডে সমন্বয় করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে দেড় কোটি ডোজ টিকা দ্রুত দেশে আনতেই এক মাসে পর পর দুইবার অর্থ ছাড় করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বাকি ২০৯ কোটি টাকা ছাড় করা হতে পারে। পঞ্চম কিস্তিতে এই অর্থ ছাড় করা হলে দেড় কোটি ডোজের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হয়ে যাবে।



সাতদিনের সেরা