kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

খাতুনগঞ্জে লকডাউনের প্রভাব

আড়তেই নষ্ট হচ্ছে আদা রসুন পেঁয়াজ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আড়তেই নষ্ট হচ্ছে আদা রসুন পেঁয়াজ

ক্রেতার আকাল পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি আড়ত খাতুনগঞ্জে। বেচাকেনা নেই বলে আমদানি করা পেঁয়াজ, আদা ও রসুন আড়তেই নষ্ট হচ্ছে। লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন আড়তে পড়ে থাকায় অবিক্রীত এসব পণ্য বস্তার মধ্যেই গঁজিয়ে উঠছে। এই অবস্থায় ক্রয়মূল্যের চেয়ে পণ্য বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ শতাংশ কম দামে। পণ্য আমদানি করে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ে অনেক ব্যবসায়ী নতুন আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন। আর ব্যাংক ঋণের বোঝা টানতে গিয়ে দেউলিয়া হতে চলেছেন অনেকেই।

আমদানিকারক জারিফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মনজুর মোরশেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোরবানি ঈদের আগে চাহিদা মাথায় রেখেই মিয়ানমার থেকে আদা ও পেঁয়াজ আমদানি করেছিলাম। লকডাউনের কারণে কোরবানি ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই বেচাকেনায় ধস নেমেছে। এবার সক্ষম (আগে ছিল) অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষ আর্থিক সংকটে কোরবানি দিতে পারেনি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এসব পণ্য বেচাকেনায়।’ তিনি বলেন, ‘বেচাকেনা হবে কিভাবে? রেস্টুরেন্ট বন্ধ, বিয়ে-শাদি বন্ধ, কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ। ফলে মসলাজাতীয় এসব পণ্য ক্রয়মূল্যের চেয়ে ৪০-৫০ শতাংশ কমে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে নতুন করে কেউ পণ্য আমদানি করবে না। এই কোরবানিতে অন্তত ২০০ কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।’

কোরবানি ঈদে মসলাপণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ, আদা, রসুনের সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে। সে হিসেবে সেই পণ্য বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করেছেন ব্যবসায়ীরা। ভারত থেকে স্থলবন্দর, মিয়ানমার থেকে টেকনাফ বন্দর এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে এসব পণ্য আমদানি হয়ে কোরবানি ঈদের আগেই ব্যবসায়ীদের গুদামে পৌঁছেছে। কিন্তু কোরবানি ঈদের আগে থেকেই শুরু হয় ‘কভিড শাটডাউন’। শাটডাউনের সেই ধাক্কায় খুচরা থেকে শুরু করে পাইকারিতে ভোগ্যপণ্য বেচাকেনায় ব্যাপক ধস নামে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইদ্রিছ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে ক্রেতার আকাল চলছে। আড়তে আদা, রসুন ও পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে। আবার আড়তের মধ্যেই এসব পণ্য অঙ্কুরিত হচ্ছে। এসব পণ্য বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিতে হচ্ছে।’ তিনি বলছেন, ‘আমরা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমেও এসব পণ্য বিক্রি করতে পারছি না। কার কাছে বিক্রি করব? ক্রেতা তো নেই। লকডাউনে আড়ত খোলা রাখতে বাধা নেই কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা তো আসতে পারছে না।’

খাতুনগঞ্জে আসা আদা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ টাকায়; এসব আদার ক্রয়মূল্য ১১৫ টাকা। কোরবানি ঈদের আগে এই আদা ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল, এরপর থেকে ধস নামে। মিয়ানমারের আদার ক্রয়মূল্য কেজি ৬২-৬৩ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের আড়তে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩১ টাকায়; এগুলোর ক্রয়মূল্য ছিল ৩৩-৩৪ টাকা। কোরবানি ঈদে এই পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আড়তে ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। আড়তে চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে এখন ৮০ টাকায়; এগুলোর ক্রয়মূল্য ছিল ১১২ টাকা।

টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিকারক বলছেন, মিয়ানমারে এখন করোনার সংক্রমণ খুব বেশি। সেখানে কড়া লকডাউন দিয়েছে সামরিক সরকার। এই কারণে কোরবানি ঈদের পর থেকেই সেখান থেকে সব পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ আমদানি শুরু হবে জানা নেই। এই অবস্থায় লোকসানে পড়ে নতুন করে কেউ আমদানি করতে চাইছে না। বাংলাদেশ সরকার কভিড লকডাউন শিথিল করলেও বাজারে সংকট কাটবে না।



সাতদিনের সেরা