kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

এইচএসবিসি বাংলাদেশের ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা

বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য বাংলাদেশ

বাণিজ্য ডেস্ক   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য বাংলাদেশ

এইচএসবিসি বাংলাদেশের আলোচনা সভায় অতিথিরা

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ আজ এশিয়ার দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর একটি। যার রয়েছে উন্নয়নের ইতিহাস ও এক আকর্ষণীয় জনবল। উন্নয়নের এই সিঁড়ি ধরে দেশের শেয়ারবাজারেও তৈরি হয়েছে অপার সম্ভাবনা, যা আরো বেশি স্বীকৃতির দাবি রাখে। এইচএসবিসি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ মার্কেট ইনসাইটস ২০২১ : কনসাম্পশন প্রপেলিং গ্রোথ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় এসব কথা বলেন আসিয়ান ও ফ্রন্টিয়ার মার্কেটস ইকুইটি স্ট্র্যাটেজিস্ট, এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের দেবেন্দ্র যোশী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি অনেকটা ভিয়েতনামের মতো। বস্তুত বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা আর পাঁচ বছর আগে এশিয়ার এই দেশটির শেয়ারবাজারের অবস্থান একই ছিল। দিন দিন এই ব্যবধান ক্রমাগত ছোট হয়ে আসছে। সাড়ে ১৬ কোটি ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা সত্ত্বেও মহামারি-পূর্ব পরিস্থিতিতে একটানা চার বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশেরও বেশি।’ যোশী আরো বলেন, ‘আমাদের মতে, বর্ধিত আয় ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ফলে বাংলাদেশ এক শিল্পবিপ্লবের দোরগোড়ায় অবস্থান করছে। তা ছাড়া নগরায়ণ, একক পরিবার এবং নারীদের কর্মসংস্থানে যোগদানের মাধ্যমে দেশে একটি উচ্চ প্রবৃদ্ধির বাজারের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস আলোচনায় প্রধান অতিথি এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। উক্ত আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন সন্দীপ উপ্পাল, গ্লোবাল কো-হেড অব ইন্টারন্যাশনাল সাবসিডিয়ারি ব্যাংকিং, কমার্শিয়াল ব্যাংকিং, এইচএসবিসি, মো. মাহবুব উর রহমান, সিইও, এইচএসবিসি বাংলাদেশ ও কেভিন গ্রিন, কান্ট্রি হেড, হোলসেল ব্যাংকিং, এইচএসবিসি বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বাণিজ্যিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। প্রধান অতিথি ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘মানুষের উদ্যোক্তা মনোভাব, আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপকে আরো উৎসাহিত করতে চাই, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাফল্য ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।’

এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি আমাদের জনগণের উন্নয়নের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষারাই প্রতিচ্ছবি। চলমান ডিজিটাইজেশন ও প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি তথা অভ্যন্তরীণ পণ্য ও সেবা ব্যবহারে ঊর্ধ্বগতি এবং আমাদের যুব জনগোষ্ঠীর আধিক্য—সব মিলিয়ে এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের বেসরকারি খাতগুলো বিভিন্ন বিরূপ পরিস্থিতি সক্ষমতার সঙ্গে মোকাবেলা করে এসেছে এবং এইচএসবিসি সব সময়ই তার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সর্বোত্কৃষ্ট সেবা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকের পাশে ছিল এবং থাকবে।’

আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্বল্পমাত্রার বৈদেশিক ঋণ এবং রেকর্ড বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এফডিআই বা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও নতুন নতুন আকর্ষণীয় প্যাকেজের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য এখন বাংলাদেশ। যেহেতু বাংলাদেশে পণ্যের উৎপাদন খরচ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন, সেহেতু তৈরি পোশাক ছাড়াও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈচিত্র্য আনতে হবে। ব্যবসা সহজীকরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ভিয়েতনামের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও, সরকারের প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা চলমান রয়েছে।



সাতদিনের সেরা