kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

শীতের ফেলন ডাল গ্রীষ্মকালে

চাষে সাফল্য পেল বাপার্ড

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শীতের ফেলন ডাল গ্রীষ্মকালে

গ্রীষ্মকালে ফেলন ডাল চাষ করে সফলতা অর্জন করেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড)। এই ফেলন ডাল সাধারণত শীতকালে পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জেলাগুলোতে হয়ে থাকে। কিন্তু বাপার্ড গ্রীষ্মকালে তাদের কৃষি খামারের অনাবাদি ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফেলন ডালের চাষ করে সফল হয়েছে।

কথিত রয়েছে, ১৯৭০ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিমান থেকে উপকূলীয় অঞ্চলে এই ডাল ফেলা হয়েছিল। সেই থেকে এই ডালের নাম ফেলন ডাল হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাপার্ডের উপপরিচালক কৃষিবিদ তোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘তিন মাস আগে আমরা বাপার্ডের কৃষি খামারে ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফেলন ডালের চাষ করি। তিন মাসের মধ্যেই এর ফল ধরেছে। এই ডালে ২৫ থেকে ৩৫ ভাগ প্রোটিন ও ৫৪ থেকে ৫৮ ভাগ কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এ ছাড়া এই ডাল গাছের শিকড়বাকড়ে অনেক মডিউল বা গুটি থাকায় মাটির উর্বরতা বাড়ে।’

বাপার্ডের পরিচালক কৃষিবিদ মো. মাহমুদুন্নবী বলেন, ‘শীতকালে উত্পাদিত ফেলন ডাল গ্রীষ্মকালে গবেষণার অংশ হিসেবে চাষ করে আমরা সফল হয়েছি। এই ডাল প্রাণিজ আমিষের পাশাপাশি উদ্ভিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ জন্য আমাদের এই ফেলন ডাল চাষ করা উচিত। অন্যদিকে এ ডাল চাষে খরচ অনেক কম। আমরা চাচ্ছি দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষকে এ ডালের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে।’

বাপার্ডের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব শেখ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শুনেছি ফেলন ডাল শুধু শীতকালে উপকূলীয় অঞ্চলে চাষাবাদ করা হয়। কিন্তু এখন দেখলাম এটি গ্রীষ্মকালেও চাষাবাদ করা সম্ভব। এটি বাড়ির আঙিনায় ও বিভিন্ন সড়কের পাশে চাষ করা যেতে পারে। এভাবে চাষ করলে দেশের দরিদ্র মানুষের উপকার হবে বা দারিদ্র্য দূর হবে।’



সাতদিনের সেরা