kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

সিঙ্গাপুর থেকে এলো ২০ টন অক্সিজেন

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিঙ্গাপুর থেকে এলো ২০ টন অক্সিজেন

কভিড রোগীদের চিকিত্সায় এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে অক্সিজেন। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে অক্সিজেন উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ দিতে পারছিল না। এমনকি শিল্প-কারখানায় অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়েও হাসপাতালে চাহিদামতো অক্সিজেন সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে এত দিন শুধু ভারত থেকেই অক্সিজেন আমদানি করে সরবরাহ সামাল দেওয়া হচ্ছিল। ভারত থেকে তরল অক্সিজেন আসছিল সড়ক ও রেলপথে। এই প্রথম সমুদ্রপথে তরল অক্সিজেন এলো ভিন্ন দেশ থেকে। ২০ টন তরল অক্সিজেনের চালানটি ট্যাংকার ভর্তি হয়ে জাহাজে করেই এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে। গত ২ আগস্ট সেটি বন্দর থেকে ছাড় করা হয়েছে। চালানটি আমদানি করেছে অক্সিজেন আমদানিকারক স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটি দেশের সরকারি-বেসরকারি সাড়ে পাঁচ শ প্রতিষ্ঠানে অক্সিজেন ও গ্যাস সরবরাহ করছে।

প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র কর্মকর্তা রিদোয়ান আল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা পরীক্ষামূলকভাবেই সমুদ্রপথে এই চালানটি আমদানি করেছি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। মূলত অক্সিজেন সংকটের সময় বিকল্প উৎস থেকে কিভাবে অক্সিজেন সরবরাহ দেওয়া যায় সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই আমরা ২০ টন তরল অক্সিজেন সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করেছি। এই চালানটি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডিএনসিসি কভিড হাসপাতালে সরবরাহ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে এত দিন আমরা নিজেরাও সড়কপথে অক্সিজেন আমদানি করেছি। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি রেলপথেও অক্সিজেন আসা শুরু হয়েছে। এখন আমরা সমুদ্রপথে আমদানি শুরু করলাম। সমুদ্রপথে আমদানি সড়কপথের তুলনায় খরচ তিন গুণ বেশি হলেও আগের দামেই আমরা সরবরাহ করব।’

সমুদ্রপথে অক্সিজেন আমদানিতে দ্রুত ছাড়ের পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টমস। সেই চিত্র দেখা গেছে স্পেকট্রার আমদানি চালানে। তরল অক্সিজেনের চালানবাহী জাহাজ ‘ব্যাংকক’ চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ জেটিতে ভিড়েছে ২৭ জুলাই। বন্দর, কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া শেষ করে গত ২ আগস্ট সেই চালানটি বন্দর থেকে ছাড় করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অক্সিজেন চালানটি ছাড়ের পদক্ষেপ নিয়েছি।’

অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে, করোনার সংক্রমণের আগে দেশের স্বাস্থ্য খাতে অক্সিজেনের চাহিদা ছিল দিনে ১০০ থেকে ১২০ টন। সেই চাহিদা দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উত্পাদন দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত। সেসময় আমদানির কোনো প্রয়োজন হতো না। দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হলে স্বাস্থ্য খাতে অক্সিজেনের চাহিদা বাড়তে থাকে। এর পরই শুরু হয় ভারত থেকে আমদানি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত এপ্রিলে কভিড সংক্রমণ যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় তখন স্বাস্থ্য খাতে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৫০ টনে দাঁড়ায়। এপ্রিলের চেয়ে জুলাইয়ে সংক্রমণ শনাক্ত অনেক বেশি হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে সংকটাপন্ন করোনা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এতে মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে দৈনিক অক্সিজেনের চাহিদা দাঁড়িয়েছে ২০০ থেকে ২১০ টনে, যা এপ্রিলের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।

দেশে উত্পাদিত শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্পে ব্যবহৃত অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে সেগুলো স্বাস্থ্য খাতে সরবরাহ দেওয়ার পরও অক্সিজেন সংকট রয়েই গেছে। এরই মধ্যে ভারতে ডেল্টা সংক্রমণ হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। যদিও বাংলাদেশে তখন সংক্রমণ কম ছিল। জুন থেকে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় বিকল্প দেশ থেকে অক্সিজেন খোঁজা শুরু হয়।