kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

প্রণোদনার ঋণে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রণোদনার ঋণে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা

দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ পর্যাপ্ত নয়। দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের গতি নিম্নমুখী। বিশেষ করে করোনায় তা একদম স্থবির হয়ে পড়েছে। ঋণের চাহিদাও কম। এমন প্রেক্ষাপটে মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কিছুটা অযৌক্তিক। আর বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঋণপ্রবাহ না বাড়লে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে নতুন মুদ্রানীতিও সহায়ক হবে না বলে মনে করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। স্বল্প সুদের প্রণোদনা ঋণের টাকা ফেরত আসবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

গতকাল মঙ্গলবার ‘সাম্প্রতিক মুদ্রানীতি কি অর্থনীতির বর্তমান চাহিদা মেটাতে পারবে? সিপিডির তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমনই মত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ভার্চুয়ালি এ ব্রিফিং করেন। এতে মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ ও বিভিন্ন দুর্বল দিক উঠে আসে। অনুষ্ঠানে সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রণোদনার ঋণ নিয়ে সিপিডি বলেছে, প্রণোদনা ঋণের টাকা ফেরত আসবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত ব্যাংকগুলো। কারণ দেশে ইচ্ছা করে ঋণখেলাপি হওয়ার প্রবণতা আছে। করোনার মতো সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হয়ে যেতে পারেন। ইতিমধ্যে প্রণোদনার টাকা শেয়ারবাজার বা অনুত্পাদনশীল খাতে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় কিভাবে মোকাবেলা করা হবে, তা নিয়ে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। উত্পাদনশীল খাতে অর্থ না গিয়ে শেয়ারবাজারে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছে সিপিডি। তারা বলছে, গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রণোদনার অর্থ শেয়ারবাজারে যাচ্ছে। তা না হলে করোনার মধ্যে শেয়ারবাজার চাঙ্গা হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রণোদনা ঋণ বড় উদ্যোক্তারা পেলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কাঙ্ক্ষিত হারে পাচ্ছে না। ফলে ছোটদের ঘুরে দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে, তারা পেছনে পড়ে যাচ্ছে। মহামারির সময় এতে বৈষম্য আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রবাসী আয় অধিক তারল্য সৃষ্টি করছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার সময়ে বিভিন্ন পরিবারের আয় কমেছে, তাদের সহায়তায় বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসছে। ২ শতাংশ প্রণোদনাও কাজ করছে। তবে এ সময়েও প্রবাসী আয়ে যে উল্লম্ফন, তাতে নজরদারি ও খবরদারি বাড়াতে হবে। তাঁর মতে, রেমিট্যান্সের টাকা বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, প্রণোদনার টাকা শুধু ব্যাংক নয়, এনজিওর মাধ্যমেও দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রান্তিক পর্যায়ে টাকা পৌঁছে যাবে সহজে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ইদানীং সন্দেহজনক স্টকে বিনিয়োগ বাড়ছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কোথাও কিছু হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি শেয়ারের দাম বাড়িয়ে টাকা বানানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কাজ করতে পারে।

সিপিডি আরো বলেছে, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা অর্জনে এই মুদ্রানীতি খুব সহায়ক হবে না। ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়। ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ করতে হবে। এই করোনার সময়ে ব্যক্তি খাতে এত ঋণ দেওয়া কঠিন। এতে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হবে না। আর এই সময় সাময়িক সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে যেন পুরনো সংস্কারের কথা ভুলে না যাই। অধিক তারল্য ব্যবহারে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এ ছাড়া বাংকিং খাতকে সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া আছে। এ অবস্থায় বাংকিং খাতে পুরনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সমাধান করতে হবে। তাহলেই আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং প্রণোদনার টাকার যথাযথ ব্যবহার হবে।

সিপিডির গবেষক ড. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী কয়েক মাস অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে বিশাল জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে পারলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তিনি আরো বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে হবে।