kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ভারতে ডিজিটাল পেমেন্ট ‘ই-রুপি’

সরকারি সেবা জনগণকে সরাসরি পৌঁছানো ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই উদ্যোগ

বাণিজ্য ডেস্ক   

৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতে ডিজিটাল পেমেন্ট ‘ই-রুপি’

যুক্তরাষ্ট্র যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে তখন ডিজিটাল মুদ্রায় এরই মধ্যে লেনদেন শুরু হয়েছে এশিয়ায়। এই অঞ্চলের বড় অর্থনৈতিক দেশ চীনের পর এবার ডিজিটাল মুদ্রা ই-রুপি উদ্বোধন করল ভারত। গতকাল সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ই-রুপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বলা হয়, ই-রুপি প্রকল্প চালুর মূল উদ্দেশ্য বেনিফিশিয়ারিকে লিক-প্রুফ পরিষেবা প্রদান করা। অর্থাৎ এর ফলে আর্থিক লেনদেনে জালিয়াতি হবে না এবং দেশের মানুষ ত্রুটিমুক্তভাবে সরাসরি সরকারি সাহায্য পাবে।

ই-রুপি কী : এটি হচ্ছে নগদ অর্থবিহীন একটি লেনদেন। কিউআর কোড বা এসএমএসভিত্তিক একটি ই-ভাউচার, যা ব্যক্তির মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। একটি ই-ভাউচার অবশ্য একবারই ব্যবহার করা যাবে। এই ভাউচার ব্যবহার করতে ক্রেতাকে কোনো কার্ড, পেমেন্ট অ্যাপ বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। গ্রাহক যেখান থেকে সেবা নিচ্ছে বা কিছু কিনছে, সেখানে সরাসরি ওই ভাউচারের বিনিময়ে ক্রয় করা যাবে। এই প্রক্রিয়ায় ক্রেতা বা গ্রাহক লেনদেন সম্পূর্ণ হয়েছে বলে নিশ্চিত করলে তবেই বিক্রেতা ওই ভাউচারের অর্থ হাতে পাবে। শুধু যে ব্যক্তির নামে ভাউচার পাঠানো হয়েছে, সেই ব্যক্তি নিজের পরিচয় দেখিয়ে এই ভাউচার ব্যবহার করতে পারবে।

নতুন এই ডিজিটাল মুদ্রা নিজেদের ইউপিআই প্ল্যাটফর্মে উন্নয়ন ঘটিয়েছে ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশন অব ইন্ডিয়া। এতে সহযোগিতা দিয়েছে আর্থিক সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংক হিসাব ছাড়ই সরকারি সুবিধা : এর ফলে দেশটির যেসব নাগরিকের এখনো ব্যাংক হিসাব নেই, তারাও সরকারি সুবিধার আওতায় চলে আসবে। সাধারণ লেনদেন ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং সেবায় এখন ই-রুপি ব্যবহার করা যাবে। যেমন মা এবং শিশু কল্যাণ প্রকল্পের অধীনে ওষুধপত্র পৌঁছে দেওয়া, পুষ্টিসংক্রান্ত সরকারি সাহায্য, যক্ষ্মা দূর করার প্রকল্প, আয়ুষ্মাণ ভারত, প্রধানমন্ত্রী জন যোজনা, সার ভর্তুকিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ই-রুপির ব্যবহার করা যাবে।

লেনদেন সরাসরি : যেহেতু ব্যবস্থাটি প্রিপেড, অর্থাৎ ক্রেতা আগে থেকেই টাকা দিয়ে ওই ভাউচার কিনেছে, তাই ভাউচারের অর্থ আটকে থাকার সমস্যা নেই বলে মনে করা হচ্ছে। কোনো মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য ছাড়াই বিক্রেতা বা যারা অর্থের বিনিময়ে সেবা দিচ্ছে, তারা তাদের প্রাপ্য হাতে পাবে। এই প্রক্রিয়ায় যেমন কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকবে না, তেমনই মাঝপথে অর্থ বা লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য চুরি যাওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না বলে দাবি করা হয়েছে।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এক ধাপ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী সব সময় ডিজিটাল উদ্যোগকে সমর্থন করে এসেছেন। গত কয়েক বছর বেশ কিছু প্রগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে সরকারি যেকোনো সেবা বা সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীকে পৌঁছে দেওয়া যায়। ইলেকট্রনিক ভাউচারের এই ধারণা সরকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দেবে।

কম্পানিগুলোও ব্যবহার করতে পারবে : সরকার ছাড়াও বিভিন্ন কম্পানি তাদের কর্মীদের নানা সুবিধা দিতে ই-রুপি ব্যবহার করতে পারবে। করপোরেট দপ্তরগুলোর বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজেও ই-রুপি ব্যবহার করা যাবে। ভারতের জাতীয় পেমেন্ট করপোরেশন এই সেবা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে যুক্ত করেছে। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকসহ ১১টি ব্যাংক শুরুতেই এ সেবা দিতে এগিয়ে এসেছে। ই-রুপির জন্য সরকারি বা বেসরকারি সংস্থাগুলোকে ব্যাংকেরই দ্বারস্থ হতে হবে। যার নামে ভাউচার, তার বিশদ তথ্য এবং কী জন্য অর্থ প্রদান করা হবে তা জানালে প্রাপকের মোবাইলে ভাউচার পাঠাবে ব্যাংক। যে বা যারা সেবা দিচ্ছে তাদের সঙ্গে গ্রাহককে সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত করবে এই পরিষেবা।

মোবাইল ফোন থাকলেই হবে : একটি জরিপে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ ভারতীয় গ্রামবাসী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। ২০১৯ সালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোনের প্রায় ২৭৭ মিলিয়ন ব্যবহারকারীই গ্রামে, অন্যদিকে ২২৭ মিলিয়ন ব্যবহারকারী শহরে থাকে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৩ সালের মধ্যে সবাই ই-রুপি নিয়ে সচেতন হয়ে যাবে। ই-রুপি আদান-প্রদানের জন্য শুধু মোবাইল নম্বর হলেই হবে। সূত্র : ইকোনমিক টাইমস, এনডিটিভি।



সাতদিনের সেরা