kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

পাটের দাম না পেয়ে আবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন কৃষক

বাণিজ্য ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাটের দাম না পেয়ে আবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন কৃষক

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ভালো ফলন হয়েছে

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ পাটের দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। আবার দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে বছর যতই সামনে যাচ্ছে ততই কমে আসছে পাটের আবাদ।

আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলী উপজেলার কোথাও তেমন একটা পাটের আবাদ করতে দেখা যাচ্ছে না। বছর যতই সামনে যাচ্ছে ততই কমে আসছে পাটের আবাদ। এভাবে চলতে থাকলে একসময় আমতলী থেকে হারিয়ে যাবে পাটের আবাদ। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চাষ হয়েছে আট হেক্টর জমিতে। প্রতিবছরই এভাবে পাটের আবাদ কমে যাচ্ছে। বিরূপ আবহাওয়া, শ্রমিক সংকটসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে পাটের আবাদ থেকে সরে যাচ্ছেন কৃষকরা। তাঁরা এখন পাটের পরিবর্তে হাইব্রিড ফসল আবাদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সি এম রেজাউল করিম বলেন, ‘বিরূপ আবহাওয়া, শ্রমিক সংকট, জলাবদ্ধতা এবং অন্যান্য ফসল আবাদে কৃষকদের বেশি আগ্রহ থাকায় এখন আর পাট চাষে তাঁরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। যার কারণে দিন দিন পাটের আবাদ থেকে সরে যাচ্ছেন কৃষকরা।’

হবিগঞ্জ : দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বন্যা। আর ভরা বর্ষার মৌসুমে হবিগঞ্জের হাওর এলাকায় নেই পানি।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চলতি আবাদ মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া সরকারি পাট ক্রয়কেন্দ্র না থাকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারিত না থাকায় দালাল, ফড়িয়াদের কাছে পাট বিক্রি করতে হচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলা শহরে ছয়টি ও উপজেলার ছাতিয়ান বাজারের ছয়টি আড়তে গত বছরও ভালো মূল্য পেয়ে কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে এবার পাট চাষে আগ্রহ দেখান। আবার চলতি বছর পাট চাষের অনুকূল আওহাওয়া থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার ছাতিয়াইন, বুল্লা, আদাঐর, আন্দিউড়া ইউনিয়নের ভাটি এলাকায় পাট চাষাবাদের উপযোগী বৃষ্টি হওয়ায় এ ফলন হয়।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মাসুন হাসান জানান, এ বছর প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ করা হয়। এর মধ্যে দেশি ২৫০ হেক্টর, তোষা ৬০ হেক্টর ও কেনাপ ৪০ হেক্টর। ফলন হয়েছে দুই হাজার ২৫২ বেল। বর্তমানে সচেতনতার অভাবে মাধবপুরের পাট চাষিরা রিবন পদ্ধতি বাদ দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে পাটের আঁশ ছাড়িয়েছেন।

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ পাটের দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা। যেখানে ঈদের আগে প্রতি মণ চার হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে, সেখানে বর্তমানে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলার পাট চাষিরা। এরই মধ্যে ক্ষেত থেকে পাট কাটা শুরু হয়েছে। আবার অনেকে পাটের আঁশ ছাড়ানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু পাটের নিম্নমুখী দামের কারণে শঙ্কায় দিন পার করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় গত বছর এক হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ২০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেড়েছে। উপজেলায় মোট এক হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। গত বছর পাটের মণ বিক্রি হয়েছিল চার-পাঁচ হাজার টাকা। তাই এবারও ভালো দাম পাওয়ার আশায় বেড়েছে পাটের আবাদ। কারণ স্বল্প খরচে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব পাট চাষে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন বলেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় প্রতিবছর পাটের আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারও পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সব সময় কৃষকদের যাবতীয় পরামর্শ ও সার বীজ প্রদান করা হয়। গত বছর এক হাজার ৪০০ হেক্টর ও এবার এক হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় এবার পাটের আবাদ বেড়েছে। এবার মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল চার হাজার টাকা করে। কিন্তু হঠাৎ করে পাটের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়েছেন।



সাতদিনের সেরা