kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

বাণিজ্য ঘাটতি ২৬০০ কোটি ডলার ছাড়াবে

জিয়াদুল ইসলাম   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাণিজ্য ঘাটতি ২৬০০ কোটি ডলার ছাড়াবে

মহামারি করোনার মধ্যেই আমদানি ও রপ্তানি দুই-ই বেড়েছে বেশ। তবে রপ্তানির চেয়ে আমদানি বাড়ার গতি ছিল বেশি। এতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সদ্যঃসমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ২৮০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ২৭ শতাংশ বেশি। তবে এ সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি ১৯ শতাংশের মতো কমেছে।

রপ্তানি আয়ে গতি ফেরার পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের জোরালো প্রবৃদ্ধি চলতি হিসাবের ঘাটতি কমাতে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া গত অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে বড় উদ্বৃত্তের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে চলতি অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে পুরো অর্থবছরের বাণিজ্য ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে দুই হাজার ৬০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলসহ বেশির ভাগ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই পূর্বাভাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে মুদ্রানীতির লিখিত বক্তব্যে গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, গত অর্থবছরের মুদ্রানীতি বহিঃখাতের গতি পুনরুদ্ধার ও বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবে ঘাটতি হ্রাস, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান স্থিতিশীল রাখাসহ সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উদ্বৃত্ত তৈরিতে সহায়ক ছিল। তবে উচ্চ ভিত্তির পাশাপাশি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলসহ বেশির ভাগ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লেনদেন ভারসাম্যের পূবার্ভাস অনুযায়ী এবার নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের তুলনায় অনেকটা কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণত চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত হলে বিদেশের সঙ্গে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়। আর বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে পড়ে। তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক অনুদান ও ঋণের ওপর ভর করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। গত মাসেই রিজার্ভ প্রথমবার ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। এই রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে সাত মাসের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব।

গত বছরের মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করে এবং এর জেরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের আমদানি ও রপ্তানি বেশ কমে যায়। তবে গত অর্থবছরে বাংলাদেশ সেই ধাক্কা কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে (এফওবিভিত্তিক, ইপিজেডসহ) বাংলাদেশ আয় করেছে তিন হাজার ৮৭৬ কোটি ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫.১০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে আমদানি নিয়ে পুরো অর্থবছরের হিসাব এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের হিসাবে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৪২৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭.২৮ শতাংশ বেশি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতির ঘোষণাপত্রে পুরো অর্থবছরের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য প্রকাশ করেছে। মুদ্রানীতিতে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৭৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭৮৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৮৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা খাতের ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ২৫৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এই খাতের বাণিজ্যে মূলত বীমা, ভ্রমণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে।