kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

জাহাজে দস্যুতার ঘটনা শূন্য চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায়

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাহাজে দস্যুতার ঘটনা শূন্য চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায়

চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় আসা পণ্যবাহী দেশি-বিদেশি জাহাজে দস্যুতার ঘটনা শূন্যে নেমেছে। অথচ কয়েক বছর আগেও এই জলসীমায় পৌঁছা জাহাজে চুরি, দস্যুতা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হতো বন্দরকে; মাসুল গুনতে হতো শিপিং লাইনগুলোকে। চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমা সীতাকুণ্ড থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত বাড়ানোর পর বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দস্যুতা শূন্যে নামিয়ে আনা। সেই কাজটি করতে সক্ষম হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চলতি ২০২১ সালের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে ৩৭টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে; এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় কোনো চুরি, ডাকাতি, দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড হয়নি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দুটি, ইন্দোনেশিয়ায় ছয়টি, ফিলিপাইনে ছয়টি, ভিয়েতনামে দুটি এবং সিঙ্গাপুর মালাক্কা প্রণালিতে ২০টি দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। বাংলাদেশ জলসীমায় আসা দেশি-বিদেশি জাহাজে কোনো দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড করতে পারেনি দস্যুতা প্রতিরোধে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংগঠন রিক্যাপ। দক্ষিণ চীন সাগরেও কোনো দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। তিন দিন আগে প্রতিষ্ঠানটি এই প্রতিবেদন অনলাইনে প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে এই ছয় মাসে দস্যুতার ঘটনা ৩৫% কমেছে। সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশে। চলতি ছয় মাসে এখানে দস্যুতার ঘটনা একেবারেই শূন্য; ২০২০ সালের একই সময়ে তিনটি দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাড়তি জলসীমায় দস্যুতার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা। চলতি ছয় মাসে দস্যুতার ঘটনা না ঘটায় আমরা সফল হয়েছি; কিন্তু আমরা আত্মতৃপ্ত নই। নজরদারিতে এক চুল ছাড় দিচ্ছি না। সম্মিলিতভাবে এই সফলতা ধরে রাখতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘বন্দরের বাড়তি জলসীমাকেও কঠোর তদারকির মধ্যে আনতে মাতারবাড়ীতে একটি রিসিভার বসিয়ে ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করেছি। তাতে বন্দর ভবন থেকেই ক্যামেরার সাহায্যে সব জাহাজের গতিবিধি প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় বিগত ১২ বছরের মধ্যে ২০১৯ সালেই শুধু দস্যুতার ঘটনা শূন্যে নেমেছিল। এর আগে ২০১০ সালে সর্বোচ্চ ২১টি, ২০১১ সালে ১৪টি, ২০১২ সালে ১২টি, ২০১৫ সালে ১০টি, ২০১৬ সালে একটি, ২০১৭ সালে ১১টি এবং ২০১৮ সালে ৯টি দস্যুতা-চুরির ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালে কোনো দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। সর্বশেষ ২০২০ সালে পাঁচটি দস্যুতার ঘটনা ঘটে। এখন ২০২১ সালের জানুয়ারি-জুন দস্যুতার ঘটনা শূন্যে নেমেছে।

সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার আবদুল্লাহ জহির বলেন, ‘বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতেই জলসীমা দস্যুতামুক্ত রাখতে হবে। ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর। আমরা এর পুনরাবৃত্তি চাই না।’



সাতদিনের সেরা