kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বড় শিল্প খাতের প্রণোদনা প্যাকেজ

ঋণ না পাওয়াদের অগ্রাধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঋণ না পাওয়াদের অগ্রাধিকার

করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতি কাটাতে বড় শিল্প ও সেবা খাতের জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ এখন পর্যন্ত যাঁরা পাননি এখন থেকে তাঁদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এই প্যাকেজের আওতায় এরই মধ্যে যাঁরা সুবিধা পেয়েছেন তাঁদের ফের ঋণ না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার এসংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়, গত বছরের ১২ এপ্রিল ও ২৫ জুন ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় আর্থিক প্রণোদনা’ শীর্ষক দুটি সার্কুলার জারি করা হয়। প্রথম সার্কুলারে বলা হয়, শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের যেসব প্রতিষ্ঠান করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শুধু সেসব প্রতিষ্ঠান এই প্যাকেজের আওতায় সুবিধা পাবে। এই প্যাকেজের আওতায় অতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বেশি প্রতিষ্ঠান যাতে এই প্যাকেজের আওতায় ঋণ সুবিধা পায় সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়। দ্বিতীয় অর্থাৎ ২৫ জুনের সার্কুলারে বলা হয়েছিল, এই প্যাকেজের ঋণ প্রাপ্যতার সমপরিমাণ অর্থ কোনো গ্রাহকের অনুকূলে এক বছরে প্রদান করা সম্ভব না হলে অবশিষ্ট অর্থ প্যাকেজের বাকি মেয়াদের মধ্যে প্রদান করতে হবে।

এসব বিষয় উল্লেখ করে বুধবারের নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্যাকেজের আওতায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য প্রদত্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা স্বল্পসংখ্যক গ্রাহকের মধ্যে কেন্দ্রীভূত না করে ক্ষতিগ্রস্ত অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের ক্ষতিগ্রস্ত যেসব প্রতিষ্ঠান এই প্যাকেজের আওতায় এখনো সুবিধা পায়নি সেসব প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ এরই মধ্যে এই প্যাকেজের আওতায় যাঁরা ঋণ পেয়েছেন তাঁদের নতুন করে আর কোনো ঋণ না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বছরের ৫ এপ্রিল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এর মধ্যে শিল্প ও সেবা খাতের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল ছিল অন্যতম। পরে একই বছরের ১২ এপ্রিল ওই প্রণোদনা প্যাকেজের নীতিমালা ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালায় বলা হয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ দেবে। এই ঋণে সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। এর মধ্যে অর্ধেক, অর্থাৎ ৪.৫ শতাংশ পরিশোধ করবে ঋণগ্রহীতা শিল্প বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাকি ৪.৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।



সাতদিনের সেরা