kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

চট্টগ্রাম বন্দরে যোগ হলো আরো একটি বেসরকারি জেটি

বেসরকারি জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্স লিমিটেডের একটি জেটিতে প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানো হয়েছিল

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম বন্দরে যোগ হলো আরো একটি বেসরকারি জেটি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পারে বেসরকারিভাবে নির্মিত দ্বিতীয় জেটিতে ভিড়েছে একটি পণ্যবাহী জাহাজ। ‘গিউলিয়া-১’ নামের জাহাজটি স্ক্র্যাপপণ্য নিয়ে সেই জেটিতে ভিড়েছে গতকাল বুধবার। জাহাজে ২৩ হাজার স্ক্র্যাপ আনা হয়েছে বিএসআরএমের জন্য। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি মূলত জাহাজ মেরামতের জন্যই এই জেটি নির্মাণ করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে জাহাজজট কমাতে সেখানে গিয়ে জাহাজ ভিড়িয়ে দ্রুত পণ্য খালাসের উদ্যোগ নিয়েছে।

কর্ণফুলী নদীর উত্তর পারে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান; আর দক্ষিণ পারে সরকারি উদ্যোগে একাধিক জেটি থাকলেও বেসরকারি উদ্যোগে জেটি নির্মাণের উদ্যোগ এই প্রথম। গত ৩০ মার্চ বেসরকারি জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্স লিমিটেডের একটি জেটিতে প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানো হয়েছিল। সম্প্রতি এর পাশে দ্বিতীয় একটি জেটি তৈরি হওয়ায় সেখানে গতকাল বুধবার থেকে জাহাজ ভেড়ানো শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পারে জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগিতা আবারও প্রমাণিত হলো।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেসরকারি উদ্যোগে কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্সের জেটি তৈরির অনুমোদনের আগেই বন্দরের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। সেই অনুযায়ী জেটি খালি থাকলে বন্দরের ব্যবহারের জন্য দেওয়ার শর্ত আছে। সে জন্য আমরা তাদের দুটি জেটিই এখন ব্যবহার করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুটি জেটি বাড়তি পাওয়ার ফলে আমরা বন্দরে বাড়তি জাহাজ ভেড়াতে পারছি। বিশেষ করে স্ক্র্যাপ পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়াচ্ছি। এতে সেই জাহাজগুলো দ্রুত জেটিতে ভিড়ছে; একই সঙ্গে বন্দরের মূল জেটির ওপর চাপ কমছে। বন্দর বাড়তি রাজস্ব আয় করছে।’

জাহাজটির শিপিং এজেন্ট এভারেট শিপিংয়ের পরিচালক আসিফ ইফতেখার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৩৩ হাজার টন স্ক্র্যাপ নিয়ে জাহাজটি বহির্নোঙরে পৌঁছে। সেখানে ৯ হাজার টন স্ক্র্যাপ ছোট জাহাজে নামানো হয়েছে। বাকি পণ্য নিয়ে জাহাজটি ড্রাইডক জেটিতে ভিড়েছে। মূলত দ্রুত স্ক্র্যাপ পণ্যবাহী জাহাজ জেটিতে ভিড়িয়ে পণ্য খালাস করতেই এই ড্রাইডক জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো হয়েছে। এর আগে প্রথম জেটিতে আমরা জাহাজ ভিড়িয়েছিলাম। জেটির তুলনায় জাহাজের দৈর্ঘ্য বড় হলেও পণ্য নামাতে কোনো সমস্যা নেই।’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ পারে আনোয়ারা এলাকায় সরকারিভাবে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কম্পানির (সিইউএফএল) একটি জেটি আছে, কর্ণফুলী অ্যাগ্রিকালচার ফার্টিলাইজার কম্পানির (কাফকো) একটি জেটি আছে। এ ছাড়া সরকারি মেরিন একাডেমির একটি জেটি আছে। কিন্তু সেগুলো নিজেদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ আছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজজট এড়াতে অনেক সময় সেই জেটিগুলোতে জাহাজ ভেড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু জেটিগুলো খালি না থাকায় এবং তাদের অসহযোগিতার কারণে ব্যবহার সম্ভব হয়নি।



সাতদিনের সেরা