kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

টিকা কিনতে এআইআইবি দিচ্ছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা

সজীব হোম রায়   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিকা কিনতে এআইআইবি দিচ্ছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা

মহামারি আকার ধারণ করা নভেল করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে অর্থ সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে সরকার। এতে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে। সম্প্রতি বিষয়টি অর্থ বিভাগকে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা সহযোগিতা পেয়ে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা এআইআইবির কাছ থেকে আরো সহায়তা পাব। অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ের বিষয়টি পাইপলাইনে আছে। এ ছাড়া আমাদের বাজেটে করোনা মোকাবেলায় পৃথক থোক বরাদ্দ রাখা আছে। তাই সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে কোনো সমস্যা হবে না।’

সূত্র মতে, জাতীয় কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৮০ শতাংশ বা ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৮ জন মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনার আলোকে এরই মধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কেনা হয়েছে। যদিও চুক্তির বেশির ভাগ টিকা এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া চীনের সিনোফার্মের তৈরি এবং রাশিয়ার তৈরি টিকাও সরকার কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় ১৪ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হলে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। সে জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর শরণাপন্ন হচ্ছে সরকার। এতে বেশ ভালো সাড়াও পাওয়া গেছে।

এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) জানিয়েছে, সংস্থাটি সব মিলিয়ে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ছয় হাজার ৩৬০ কোটি ৫৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাজেট সাপোর্ট হিসেবে পাওয়া যাবে ৫০০ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ চার হাজার ২৪০ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর টিকা কিনতে পাওয়া যাবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দুই হাজার ১২০ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজেট সাপোর্টের চার হাজার ২৪০ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার টাকাও টিকা কিনতে ব্যয় করতে পারে সরকার। এর আগেও সংস্থাটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারকে ঋণ দিয়েছে। ‘কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্পের আওতায় গত বছর এআইআইবি ১০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৪৮ কোটি সাত লাখ ১৪ হাজার টাকা। একই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক থেকেও ৫০ কোটি ডলার পাওয়া যাবে; প্রতি ডলার সমান ৮৫ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ চার হাজার ২৫০ কোটি টাকা। অবশ্য এই প্রকল্পের আওতায় গত বছরের ১০ এপ্রিল ১০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৪৮ কোটি সাত লাখ ১৪ হাজার টাকা।

আরেক উন্নয়ন সহযোগী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে করোনার প্রভাব থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা, ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পলিসি সাপোর্ট, কভিড-১৯ রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স শীর্ষক প্রকল্পে স্বাস্থ্য খাতে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা এবং করোনা মোকাবেলায় ৯.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান সহায়তা দিয়েছে। এ ছাড়া ভ্যাকসিন কেনার জন্য ৯৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে। সব মিলিয়ে এডিবির কাছ থেকে এক হাজার ৭৪৯.৩৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাওয়া গেছে, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ হাজার ২৫৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭৯ হাজার ২৮৮ টাকা।



সাতদিনের সেরা