kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

সাগরে আটকা ২০০০ কোটি টাকার রপ্তানি পণ্যের জাহাজ

♦ গত ২০ জুলাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়
♦ এলসিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৯ জুলাই এই জাহাজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাগরে আটকা ২০০০ কোটি টাকার রপ্তানি পণ্যের জাহাজ

প্রায় এক হাজার ১০০ একক রপ্তানি পণ্য ভর্তি করে চট্টগ্রাম বন্দর জেটি থেকে রওনা দিয়ে বহির্নোঙরে আটকা পড়েছে বিদেশি জাহাজ এমএসসি কায়েমি। গত ২০ জুলাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়; কিন্তু উচ্চ আদালতে মামলার গ্যাঁড়াকলে পড়ে জাহাজটি আটক হয়। এর পর থেকেই সব পণ্য নিয়ে জাহাজটি আটকা আছে। জাহাজটিতে অন্তত ৪০ আমদানিকারকের পণ্য, যেগুলো কলম্বো সমুদ্রবন্দর হয়ে বড় জাহাজে ইউরোপ-আমেরিকায় বিদেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু সাত দিন ধরে সব রপ্তানি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় অলস পড়ে আছে। জাহাজটিতে আটকে থাকা পণ্যের পরিমাণ কমপক্ষে দুই হাজার কোটি টাকার।

ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে ব্যাপক জাহাজজটের কারণে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা নির্দিষ্ট সময়ে ক্রেতার কাছে রপ্তানি পণ্য পৌঁছানো নিয়ে এমনিতেই চরম উদ্বেগে আছেন। এই কঠিন সময়ে জাহাজ ভর্তি রপ্তানি পণ্য সাত দিন ধরে সাগরে পড়ে থাকায় উদ্বেগ আরো বেড়েছে রপ্তানিকারকদের মধ্যে।

জাহাজটির শিপিং এজেন্ট মেডিটেরানিয়ান শিপিং কম্পানির (এমএসসি) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘জাহাজটি আমদানি পণ্য নিয়ে আসার সময় এলসিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাংলাদেশি এক আমদানিকারক বিদেশি সরবরাহকারীর বদলে সরাসরি জাহাজের বিরুদ্ধেই মামলা করে দেন। পাওনা নিয়ে ঝামেলা থাকলে সরবরাহকারীর সঙ্গে থাকতে পারে; কিন্তু এতে তো জাহাজের সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবেলার চেষ্টা করছি; কিন্তু জাহাজে থাকা এক হাজার ৮৪ একক রপ্তানি পণ্যের উৎপাদকরা বিপাকে পড়লেন। কলম্বো বন্দরে গিয়ে এই রপ্তানি পণ্য বড় জাহাজে তুলে ইউরোপ-আমেরিকায় যাওয়াও বিলম্বিত হলো।’

জানা গেছে, ঢাকা কলিমউল্লাহবাদ ফরিদাবাদ শ্যামপুরের আমদানিকারক আরবি কনকাস্ট অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস প্রাইভেট লিমিটেড মূলত হাইকোর্টের অ্যাডমিরালিটি স্যুটে ১৯ জুলাই এই মামলাটি করেন। মামলায় জাহাজ মালিক, জাহাজের শিপিং এজেন্ট, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান, কাস্টমস কমিশনার, নৌ বাণিজ্য দপ্তর, পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। আবেদনকারী দুই কোটি ৬১ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন। মামলায় ৫০০ টন স্ক্র্যাপ কেনা নিয়ে চট্টগ্রামের এইচএম স্টিলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথা উল্লেখ করা হয়। বাদীর অভিযোগ, বিদেশি সরবরাহকারী স্ক্র্যাপ পণ্যগুলো শর্ত ভঙ্গ করে এইচএম স্টিলকে দিয়েছে।

অভিযোগ আছে, আরবি কনকাস্ট অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস প্রাইভেট লিমিটেড এলসিসংক্রান্ত টাকা পরিশোধের মানি লন্ডারিং জটিলতা এড়াতেই এই মামলা করেছে। আর এই মামলায় কোনো কারণ ছাড়াই আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন জাহাজে থাকা রপ্তানি পণ্যের মালিকরা।

জানতে চাইলে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা হচ্ছে আমদানি পণ্য নিয়ে আর সেই জাহাজে রপ্তানি পণ্য নিয়ে আমরাই বিপাকে পড়লাম। এমনিতেই কলম্বো বন্দর দিয়ে পণ্য জাহাজীকরণে বিপুল সময় লাগছে। এই সময়ে এমএসসি কায়েমি জাহাজটি মামলার জালে পড়ে বাড়তি সাত দিন সাগরে পড়ে থাকায় উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।’

জাহাজটি এমন সময়ে আটক হলো, যখন কলম্বোগামী বিপুল রপ্তানি পণ্য বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে আটকে আছে। আর এই পণ্য দ্রুত জাহাজীকরণে জোর দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ জন্য কলম্বোগামী জাহাজকে জেটিতে ভিড়তে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে সাতটি নতুন জাহাজ চলাচলের অনুমতিও দিয়েছে।



সাতদিনের সেরা