kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শিবলীর বাগানে চীন থাইল্যান্ডের ফল

এক একর জমিতে থাইল্যান্ডের ফল রক মেলন, চায়নিজ স্কোয়াস ও বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিবলীর বাগানে চীন থাইল্যান্ডের ফল

শখের বশে শুরু করে শিবলী এখন পাক্কা চাষি। ছবি : কালের কণ্ঠ

পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে ধান চাষ না করে সেখানে তৈরি করেছেন উন্নত জাতের আমবাগান। সেই আমবাগানের মধ্যে এক একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সাথি ফসল হিসেবে চাষ করেছেন বিদেশি ফল ও সবজি। চীন থেকে এক বন্ধুর মাধ্যমে হলুদ তরমুজ বীজ ও দেশের চুয়াডাঙ্গা, বগুড়া ও ঢাকা থেকে রক মেলন বা সাম্মাম ফলের চারা সংগ্রহ করেন। সেগুলো জমিতে রোপণ করলে চারাগুলোও হয় খুব হৃষ্টপুষ্ট। শখের বশে শুরু করে শিবলী এখন পাক্কা চাষি। বর্তমানে তাঁর এক একর জমিতে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত ফল রক মেলন (সৌদি আরবের সাম্মাম ফল) চায়নিজ হলুদ তরমুজ, সাদা ও কালো স্কোয়াস, লাল, সবুজ, হলুদসহ বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম চাষ করা হয়েছে। আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে এই রক মেলন চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন শিবলী। তাঁর পুরো নাম হোসনে মাহফুজ শিবলী। তিনি নওগাঁর ঠাঁঠা বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে খ্যাত সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা গ্রামের মৃত জহুরুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে। উপজেলার গোয়ালা আটানীপাড়া মাঠেই তিনি এসব ফসলাদি চাষাবাদ করেন।

শিবলী জানান, ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে তিনি অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক করেছেন। পড়াশোনা শেষে দীর্ঘদিন ঢাকায়ই ব্যবসা-বাণিজ্য করছিলেন। হঠাৎ করেই তাঁর নিজ এলাকায় চলে আসা। সম্প্রতি শিবলীর বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, আমগাছের সারির মাঝে মাঝে হালকা মাচার ওপর লতানো গাছে ধরে আছে সাদা সাদা খসখসে অজস্র রক মেলন। প্রতিটি ফলের ওজন এক থেকে তিন কেজি। কিছু ফল পাকতে শুরু করেছে। শিবলী বলেন, ‘বরেন্দ্র ভূমির এই মাটিতে বিদেশি জাতের ফলটি খুব ভালোভাবেই চাষাবাদ করা সম্ভব। এটি বছরে তিনবার চাষ করা যায়। দেশের সব বাজারে ফলটির ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারব।’

চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফল ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধে অবদান রাখে। স্বাদ ও গন্ধেও ফলটি অতুলনীয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন রয়েছে, যা কমলার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি আছে এই ফলে। আরো আছে পটাসিয়াম, ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যালেনিয়াম। এ ফল মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান সেলিম বলেন, ‘সৌদি আরব ও আশপাশের দেশগুলোতে এই ফলের চাষ হলেও আমাদের দেশের বরেন্দ্র এলাকার মাটি ও আবহাওয়া ফলটির চাষাবাদ অনেকটা মানিয়ে নিয়েছে। তাই সাপাহার উপজেলার বরেন্দ্র মাটিতে এই ফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।’



সাতদিনের সেরা