kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

ঘোষণা বৃহস্পতিবার

বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহে এবার সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহে এবার সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি

চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে আগামী বৃহস্পতিবার। গতকাল রবিবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন কমিটির এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিতে নতুন অর্থবছরের জন্য সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, করোনাকালীন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি দিতে হবে, যাতে টাকার অভাবে কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আটকে না থাকে; ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। তবে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এখনো আমরা অনেক তথ্য পাইনি। এগুলো আসতে সময় লাগছে।’

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কাঙ্ক্ষিত জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বাজারে মুদ্রা ও ঋণ সরবরাহ সম্পর্কে একটি আগাম ধারণা দিতে মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিবছর মুদ্রানীতি প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়। তবে করোনার কারণে এবারও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনাসভার আয়োজন না করে মেইলে মতামত নেওয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সর্বসাধারণের মতামত নেওয়া হয়। গত ১০ জুলাই ছিল মতামত দেওয়ার শেষ দিন।

জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ বাড়ায় এবারও আনুষ্ঠানিকভাবে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা থেকে বিরত থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরিবর্তে আগেরবারের মতোই মুদ্রানীতির ঘোষণাপত্র ও গভর্নরের বক্তব্য প্রেস রিলিজ আকারে সাংবাদিকদের কাছে মেইলে পাঠানো হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন মুদ্রানীতি সম্প্রসারণমুখী হতে হবে, যাতে বিনিয়োগ বাড়ে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। তবে সমস্যা হচ্ছে এর বাস্তবায়ন হয় না। গেল অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ছিল, সেটার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, সেটা বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দিকে তাকালেই কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা সর্বনিম্ন।’

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি ঋণের প্রবাহ না বাড়লে বিনিয়োগ কিভাবে হবে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা কেমন করে হবে। এ প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর মুদ্রানীতিতে থাকা উচিত।’

২০২০-২১ অর্থবছরের বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্য ধরা হয় ১৪.৮ শতাংশ। গত মে পর্যন্ত বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৭.৫৫ শতাংশ, যা স্মরণকালের সর্বনিম্ন। করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরালো না হওয়াই এর কারণ। নতুন অর্থবছরে করোনা সংক্রমণ আরো বেড়েছে। কবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে কেউ বলতে পারছে না। তার পরও বেসরকারি ঋণ উৎসাহিত করতে ১৪ শতাংশের ওপর এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র। সেই সঙ্গে ব্যাপক মুদ্রার জোগানও ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। গত অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা থেকেও কম ঋণ নিয়েছে সরকার। গত মে পর্যন্ত সরকারের নিট ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র সাড়ে ২১ শতাংশ। চলতি মুদ্রানীতিতে পুরো অর্থবছরে সরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্য ধরা আছে প্রায় ৪৪ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা