kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

ব্যাংকে গ্রাহক উপস্থিতি কম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাংকে গ্রাহক উপস্থিতি কম

লকডাউনে সব কিছু বন্ধ থাকায় ব্যাংকের লেনদেনও চলে ঢিমেতালে। ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল রবিবার ব্যাংক খুললেও গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। ফলে লেনদেনেও তেমন চাপ ছিল না। তবে সব এলাকায় সব ব্যাংকের শাখা খোলা না থাকায় গ্রাহকদের কেউ কেউ ভোগান্তিরও শিকার হন। মূলত কঠোর লকডাউনের কারণে অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা, শপিং মল, গণপরিবহনসহ সব কিছু বন্ধ থাকায় অনেক শাখায় ঢিলেঢালাভাবে চলে ব্যাংকিং কার্যক্রম। রাজধানীর ব্যাংকপাড়া মতিঝিল, দিলকুশা, দৈনিক বাংলা, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছুটি ছিল ব্যাংকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। সব মিলিয়ে পাঁচ দিন বন্ধ শেষে রবিবার থেকে গ্রাহকের চাহিদামতো ব্যাংকগুলো শাখা খোলা রাখতে শুরু করেছে। লেনদেন হচ্ছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। সরেজমিনে বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে দেখা গেছে, শাখার ভেতরে গ্রাহকদের উপস্থিতি খুবই কম। যাঁরা এসেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই বিভিন্ন বিলের টাকা জমা দিচ্ছে। নগদ টাকা উত্তোলনের কাউন্টারে কোনো চাপ নেই।  তবে ব্যাংকগুলোতে ভিড় কম থাকলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও তাপমাত্রা মাপতে থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহার করা হয়েছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

রাজধানীর দৈনিক বাংলায় অবস্থিত বেসরকারি সাউথ বাংলা অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক শেখ শরফুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদ-পরবর্তী সময়ে প্রথম দু-তিন দিন এমনিতেই লেনদেন কম হয়, ঢিলেঢালা থাকে। কিন্তু এবার লকডাউনের কারণে শিল্প-কারখানা, গণপরিবহনসহ সব কিছু বন্ধ রয়েছে। সব কিছু মিলে গ্রাহক উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যেমন কম ছিল, তেমনি লেনদেন কম হয়েছে।’ তবে গ্রাহক উপস্থিতি কম হলেও শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাঁচ দিন পর ব্যাংক খুললেও ভিড় বলতে গেলে তেমন ছিল না, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কম। এর কারণ শিল্প-কারখানাসহ প্রায় সব কিছুই বন্ধ। এ ছাড়া সংক্রমণ বাড়ায় গ্রাহকরা ঘরে বসে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা নেওয়ার কারণে ব্যাংকে ভিড় কমেছে।’ 

এদিন রাজধানীর বাইরেও ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের ভিড় কম ছিল। আশুলিয়ার বাইপাইল বাজারের পাশে অবস্থিত ট্রাস্ট ব্যাংকের ক্যাশ বিভাগের কর্মকর্তা মো. সৈয়দ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের শাখাটি শিল্প এলাকায় অবস্থিত হওয়ার পরও গ্রাহকদের ভিড় তেমন ছিল না। এর কারণ শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। শপিং মল ও গণপরিবহনও বন্ধ। ফলে ঈদ-পরবর্তী প্রথম দিনে যাঁরা লেনদেন করতে আসেন, তাঁদের বেশির ভাগই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিফোন বিলের টাকা জমা দিয়েছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গত শুক্রবার থেকে আবার ১৪ দিনের লকডাউনে যায় দেশ, যা শেষ হবে আগামী ৫ আগস্ট। এ সময়ে ব্যাংকে লেনদেন কিভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে গত ১৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি স্পষ্ট করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, এই সময়ে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিনই সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে। লেনদেন ছাড়া আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। লকডাউন চলাকালে গ্রাহকদের হিসাবে নগদ বা চেকের মাধ্যমে অর্থ জমা ও উত্তোলন, ডিমান্ড ড্রাফট বা পে-অর্ডার ইস্যু ও জমা গ্রহণ, বৈদেশিক রেমিট্যান্সের অর্থ পরিশোধ, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের আওতায় প্রদত্ত ভাতা বা অনুদান বিতরণ চালু থাকবে। এ ছাড়া ব্যাংকের খোলা রাখা বিভিন্ন শাখা ও একই শাখার বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর, ট্রেজারি চালান গ্রহণ, অনলাইন সুবিধাসংবলিত ব্যাংকের সব গ্রাহকের এবং সুবিধাবহির্ভূত ব্যাংকের খোলা রাখা শাখার গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক চালু রাখা বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেমস বা ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার অধীন অন্য লেনদেন সুবিধা প্রদান এবং জরুরি বৈদেশিক লেনদেন সংক্রান্ত কার্যাবলি চালু থাকবে।



সাতদিনের সেরা